ভারতীয় সংবাদ জগতের অপূরণীয় ক্ষতি! ৮৮ বছরে বিদায় নিলেন প্রবীণ কলমচি এইচ কে দুয়া

ভারতীয় সংবাদ জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল। প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, প্রবীণ সম্পাদক এবং প্রাক্তন সাংসদ এইচ কে দুয়া (H.K. Dua)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। বুধবার দুপুরে দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে গত তিন সপ্তাহ ধরে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ দেশের রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহল।
এইচ কে দুয়া ভারতের সাংবাদিকতা ইতিহাসের সেই বিরল ব্যক্তিত্ব, যিনি তিনটি সর্বভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদপত্র— ‘হিন্দুস্তান টাইমস’, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ এবং ‘দ্য ট্রিবিউন’-এর সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন। ভারতীয় সাংবাদিকদের মধ্যে এই অসামান্য কৃতিত্ব আর কারও নেই বললেই চলে। তাঁর তুখোড় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং নিরপেক্ষ লেখনী দশকের পর দশক ধরে পাঠকদের পথ দেখিয়েছে। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি রাজনীতির আঙিনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ছাপ রেখেছিলেন। দুই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং এইচডি দেবেগৌড়ার মিডিয়া অ্যাডভাইজার (মাধ্যম উপদেষ্টা) হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।
সংবাদমাধ্যম ও জনসেবায় তাঁর অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৮ সালে তাঁকে দেশের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার ‘পদ্মভূষণ’-এ সম্মানিত করা হয়। ২০০৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে রাজ্যসভায় যোগ দেন এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত সংসদীয় বিতর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি।
১৯৩৭ সালে জন্মগ্রহণ করা দুয়া কর্মজীবন শুরু করেছিলেন রাজনৈতিক সংবাদদাতা হিসেবে। পাঞ্জাব ও কুরুক্ষেত্র বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সাম্মানিক ‘ডিলিট’ উপাধি প্রদান করে। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “পদ্মভূষণ এইচ কে দুয়ার প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকাহত। তাঁর মতো বহুমুখী প্রতিভা ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব বর্তমান সময়ে বিরল।” মার্ক তুলির প্রয়াণের কিছুদিনের মধ্যেই এইচ কে দুয়ার প্রস্থান ভারতীয় সংবাদ জগতের এক গভীর শূন্যতা তৈরি করল।