রঙে রঙে ভারত! লাঠমার থেকে শিগমো— জানুন দেশের কোথায় কেমন হয় হোলি উৎসব

ভারতের প্রতিটি উৎসবই হৃদয়ের টানে উদযাপিত হয়, আর যখন রঙের উৎসব ‘হোলি’র কথা আসে, তখন সেই উদ্দীপনা দ্বিগুণ হয়ে যায়। ২০২৬ সালে আগামী ১৮ মার্চ দেশজুড়ে পালিত হবে এই বসন্ত উৎসব। তবে আমাদের চেনা দোলযাত্রা ছাড়াও ভারতের বিশাল মানচিত্রে এই উৎসবের রয়েছে হরেক রূপ। মন্দের ওপর ভালোর জয়ের এই উৎসব কোথাও লাঠির লড়াইয়ে পালিত হয়, তো কোথাও রাজকীয় জাঁকজমকে। চলুন দেখে নেওয়া যাক ভারতের বৈচিত্র্যময় হোলির সাতকাহন।
ব্রজের লাঠমার ও বৃন্দাবনের ফুলের হোলি: শ্রীকৃষ্ণের জন্মভূমি ব্রজধামে হোলি মানেই এক অন্য অনুভূতি। মথুরা, নন্দগাঁও ও বরসানায় পালিত হয় বিখ্যাত ‘লাঠমার হোলি’। এখানে মহিলারা পুরুষদের লাঠি দিয়ে আঘাত করেন, আর পুরুষরা ঢাল দিয়ে তা আটকানোর চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, বৃন্দাবনের বাঁকে বিহারী মন্দিরে আবিরের বদলে খেলা হয় টাটকা ফুলের পাপড়ি দিয়ে, যা ‘ফুলের হোলি’ নামে বিশ্বখ্যাত।
পশ্চিমবঙ্গের দোলযাত্রা ও বসন্তোৎসব: বাঙালির কাছে হোলি মানেই দোলযাত্রা। ফাল্গুনী পূর্ণিমার এই তিথিতে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমলীলার স্মরণে আবির খেলায় মেতে ওঠে আবালবৃদ্ধবনিতা। শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ‘বসন্তোৎসব’ এক অনন্য মাত্রা পায়। ‘ওরে গৃহবাসী খোল দ্বার খোল’ গানের মাধ্যমে হলুদ পোশাকে নৃত্যের তালে শুরু হয় এই উৎসব।
রাজস্থানের রাজকীয় হোলি ও গোয়ার শিগমো: রাজস্থানের উদয়পুর ও জয়পুরে হোলি উদযাপিত হয় আভিজাত্যের সঙ্গে। রাজপরিবারের সদস্যরা প্রাসাদে হোলিকা দহনে অংশ নেন। রাজকীয় শোভাযাত্রা ও দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভিড়ে এটি এক উৎসবের রূপ নেয়। অন্যদিকে, সৈকত শহর গোয়ায় হোলি পরিচিত ‘শিগমো’ নামে। এখানে লোকনৃত্য, বর্ণাঢ্য প্যারেড এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বসন্তকে স্বাগত জানানো হয়।
পাঞ্জাবের হোলা মহল্লা: পাঞ্জাবে হোলির রূপ সম্পূর্ণ ভিন্ন। শিখদের বীরত্বের প্রতীক হিসেবে এখানে পালিত হয় ‘হোলা মহল্লা’। কুস্তি, মার্শাল আর্ট এবং তরবারি চালানোর প্রদর্শনী এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বীরত্বের এই উদ্ যাপনের শেষে চলে রঙের খেলা ও বিশাল লঙ্গর।
ভারতের প্রতিটি কোণেই হোলি যেন ঐক্যের এক সুতো। ১৮ মার্চের এই রঙিন মুহূর্ত উপভোগ করতে আপনিও বেছে নিতে পারেন আপনার পছন্দের গন্তব্য।