মধ্যপ্রাচ্যে মহাপ্রলয়! ইজরায়েলি হানায় লেবাননে ঘরছাড়া ৩০ হাজার, ধ্বংসের মুখে আরও ৫৯টি এলাকা

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের দাবানল এবার গ্রাস করতে শুরু করেছে লেবাননকে। সোমবারের পর মঙ্গলবারও লেবানন সীমান্তে আগ্রাসন জারি রেখেছে ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF)। হেজবোল্লার শক্ত ঘাঁটিগুলোতে ইজরায়েলের লাগাতার বোমাবর্ষণে কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ লেবানন। রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (UNHCR) জানিয়েছে, ইজরায়েলের নির্দেশে ৫৯টি এলাকা থেকে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ ঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথেও চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে।

৫৯ এলাকা খালি করার নির্দেশ ও মানবিক সংকট ইজরায়েলি সেনাবাহিনী লেবাননের সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে ৫৯টি এলাকা ছেড়ে সরে যাওয়ার চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এই নির্দেশের পরই শুরু হয়েছে গণ-প্রস্থান। UNHCR-এর মুখপাত্র জানিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ তাঁদের সর্বস্ব নিয়ে রাস্তায় রাত কাটাচ্ছেন। ট্র্যাফিক জ্যামে আটকে পড়া অসংখ্য মানুষের গন্তব্য এখনও অনিশ্চিত। সোমবারের হামলায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক।

আরব দুনিয়ায় আগুনের বৃষ্টি: ইউএই-র দাবি সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (UAE) দাবি করেছে, ইরানের দিক থেকে তাঁদের দেশের দিকে ১৮৬টি মিসাইল এবং ৮১২টি ড্রোন ছোড়া হয়েছে। যদিও আমিরশাহীর শক্তিশালী ‘এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম’ বেশিরভাগ হামলাকেই মাঝ আকাশে ধ্বংস করে দিয়েছে। ১৭২টি মিসাইল রুখে দেওয়া সম্ভব হলেও বেশ কিছু মিসাইল সমুদ্রে গিয়ে পড়েছে। এই ঘটনায় গোটা আরব জাহানে নতুন করে যুদ্ধের আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

ইরান ও কাতারের পরিস্থিতি ইরানিয়ান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত চার দিনে ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ হানায় ইরানে ৭৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় ১৫৩টি শহরকে লক্ষ্য করে ১,০৩৯টি হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের প্রভাবে কাতার তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৮,০০০ আন্তর্জাতিক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ যুদ্ধের কবলে পড়তে চলেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।