৬২ লক্ষ নাম বাদ দিয়েও গলদ? ডুপ্লিকেট ভোটার কাণ্ডে সিইও-র নিশানায় দুই জেলা নির্বাচনী আধিকারিক!

পশ্চিমবঙ্গের সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরেও দানা বাঁধল বড়সড় বিতর্ক। মৃত ভোটার বাদ দেওয়া এবং ডুপ্লিকেট নাম রোখার জন্য নির্বাচন কমিশন ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিলেও, বাস্তব চিত্রটি ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর কলকাতার শ্যামপুকুর এবং উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর— এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রের চূড়ান্ত তালিকায় একই ভোটারের নাম খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। এই ঘটনায় কমিশনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় ক্ষুব্ধ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল দুই জেলার নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছেন।
তথ্য জেনেও কেন ব্যবস্থা নয়? কমিশন সূত্রে খবর, ওই ভোটার এবং তাঁর বাবার নাম উভয় জায়গাতেই হুবহু এক। অদ্ভুতভাবে একটি কেন্দ্রে তাঁর বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ৫৬ বছর এবং অন্যটিতে ৫৮ বছর। আরও চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ডিসেম্বর মাসেই সিইও দফতর ওই ভোটারকে চিহ্নিত করে শোকজ করেছিল। কেন তিনি দুই জায়গায় নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জানিয়েছিলেন, সেই কৈফিয়তও চাওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, গোলমালের খবর আগে থেকেই কমিশনের কাছে ছিল। তা সত্ত্বেও ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় কীভাবে সেই নাম রয়ে গেল, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় দেখা গিয়েছে, রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষ নাম ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সরব হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ার নামে বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে ডুপ্লিকেট ভোটারের উপস্থিতির প্রমাণ মেলায় বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র এল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, একজন ভোটার কেবল একটি জায়গাতেই নাম রাখতে পারেন। একাধিক জায়গায় নাম থাকা আইনত অপরাধ। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানতে চেয়েছেন, শুনানির পরেও কেন তথ্যটি তালিকা থেকে মোছা হলো না? এটি কি প্রযুক্তিগত ত্রুটি নাকি আধিকারিকদের গাফিলতি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপোর্ট হাতে আসার পর সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।