সোনার মেয়ের হাতে কি জোড়াফুলের ব্যাটন? উত্তরবঙ্গের হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে প্রার্থী বদলের জল্পনায় তোলপাড়

জলপাইগুড়ি জেলার রাজনীতির অলিন্দে এখন একটাই প্রশ্ন— ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূলের বাজি কি এবার সোনার মেয়ে স্বপ্না বর্মণ? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই উত্তরবঙ্গের অন্যতম হেভিওয়েট আসন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চর্চা। দীর্ঘদিনের বিধায়ক ও উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা গৌতম দেব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি আর এই কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান না। আর ঠিক এই সময়েই আন্তর্জাতিক অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মণের তৃণমূলে যোগদান এবং গৌতম দেবের সঙ্গে তাঁর মিছিল করা— দুইয়ে দুইয়ে চার করতে শুরু করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গৌতম দেবের সরে দাঁড়ানো ও বিজেপির কটাক্ষ ২০১১ এবং ২০১৬ সালে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি থেকে রেকর্ড ভোটে জিতে রাজ্যের মন্ত্রী হয়েছিলেন গৌতম দেব। কিন্তু ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে নিজেরই প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ ও বিজেপি প্রার্থী শিখা চট্টোপাধ্যায়ের কাছে পরাজিত হন তিনি। সম্প্রতি এক দলীয় কর্মসূচি থেকে গৌতমবাবু স্পষ্ট করেন, এবার তিনি আর প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। এই ঘোষণার পরই বর্তমান বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায় তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন, “জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার ভয়েই উনি রণক্ষেত্র ছাড়ছেন।” তবে তৃণমূল শিবিরের দাবি, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত হতে পারে।

চ্যালেঞ্জের পাহাড় ও গাণিতিক সমীকরণ ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান শাসকদলের জন্য বেশ উদ্বেগের। জলপাইগুড়ি লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা এলাকায় বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত কুমার রায় প্রায় ৭২ হাজার ভোটের লিড পেয়েছিলেন। বিজেপি যেখানে ১ লক্ষ ৫৬ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়েছিল, সেখানে তৃণমূল আটকে ছিল মাত্র ৮৩ হাজারে। এই বিশাল ব্যবধান মুছে ফেলে জয় ছিনিয়ে আনা যে কোনো প্রার্থীর জন্যই পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক মহলের মতে, সাধারণ রাজনৈতিক মুখ দিয়ে এই ব্যবধান ঘোচানো কঠিন বলেই কি স্বপ্না বর্মণের মতো গ্ল্যামারাস ও লড়াকু মুখকে সামনে আনতে চাইছে ঘাসফুল শিবির?

স্বপ্নার যোগদান ও অন্দরমহলের গুঞ্জন স্বপ্না বর্মণ নিজের এলাকা রাজগঞ্জ ছেড়ে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে কেন সক্রিয় হচ্ছেন, তা নিয়ে দলের অন্দরেও নানা মত রয়েছে। জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ অবশ্য কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, প্রার্থী ঠিক করবে দলের হাইকম্যান্ড। স্বপ্না নিজেও জানিয়েছেন, তিনি আপাতত সংগঠনের নির্দেশ মেনে কাজ করছেন। তবে গৌতম দেবের অভিজ্ঞতার সঙ্গে স্বপ্নার তারুণ্য ও জনপ্রিয়তা মিশিয়ে এই কেন্দ্রে হৃতগৌরব পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে তৃণমূল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। এখন দেখার, ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির ‘রাজনৈতিক পরীক্ষাগারে’ স্বপ্নার নাম সত্যিই চূড়ান্ত চমক হয়ে ওঠে কি না।