মধ্যপ্রাচ্যে রণদামামা! মোদির জরুরি ফোন কুয়েত-ওমান-কাতারকে, ১ কোটি ভারতীয়র ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগে দিল্লি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে ঘনিয়ে আসছে যুদ্ধের কালো মেঘ। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, গত ৪৮ ঘণ্টায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেই সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, জর্ডন এবং বাহারিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলেছেন তিনি। সামরিক সংঘাত যে ভয়াবহ মোড় নিচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। বিশেষ করে সেই অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয়র জীবন ও জীবিকা এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

দিল্লির সাত দফার কড়া বার্তা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল একটি বিস্তারিত বিবৃতি জারি করেছেন। সেখানে সাতটি প্রধান পয়েন্টের মাধ্যমে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা হয়েছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন আর নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। একের পর এক দেশ এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লাশের সংখ্যা। পবিত্র রমজান মাসের প্রাক্কালে মধ্যপ্রাচ্যের এই অশান্তি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে নয়াদিল্লি।

ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে আপসহীন ভারত বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের মন্ত্রক স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এই মুহূর্তে ভারতের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো সেখানে থাকা এক কোটি ভারতীয় নাগরিকের সুরক্ষা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতীয়দের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সামান্যতম আশঙ্কাও ভারত বরদাস্ত করবে না। ইতিমধ্যই খবর পাওয়া গিয়েছে যে, এই সংঘাতে কয়েকজন ভারতীয় প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন নিখোঁজ। এই তথ্য দিল্লির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।

অর্থনীতি ও বাণিজ্যে অশনি সংকেত শুধুমাত্র মানুষের জীবন নয়, এই যুদ্ধ ভারতের অর্থনীতির জন্যও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য ভারতের বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। বিশেষ করে লোহিত সাগর বা সংলগ্ন এলাকায় পণ্যবাহী জাহাজের ওপর আক্রমণ ভারতের মতো দেশের পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। কারণ, বিশ্বজুড়ে কর্মীবাহিনীর একটা বিশাল অংশই হলো ভারতীয়। সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হলে ভারতের বাজারেও তার সরাসরি প্রভাব পড়বে।

শান্তি ও আলোচনার আহ্বান ভারত সরকার পরিষ্কার জানিয়েছে যে, সামরিক শক্তি প্রদর্শন কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না। সমস্ত বিবাদমান পক্ষকে অবিলম্বে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছে মোদি সরকার। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় থাকা ভারতীয়দের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে জানানো হয়েছে যে, প্রতিটি দেশের ভারতীয় দূতাবাসগুলো চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক রয়েছে। যেকোনো প্রয়োজনে বা বিপদে সরাসরি দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভারত সরকার প্রতি মুহূর্তে পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং আরব দেশগুলোর প্রশাসনের সঙ্গে নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখছে।