দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রথম! হৃদপিণ্ডের দেওয়াল থেকে জটিল অস্ত্রোপচারে সরানো হলো পুরনো ডিভাইস, প্রাণ বাঁচল বৃদ্ধের

চিকিৎসা বিজ্ঞানের দুনিয়ায় এক অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে প্রথমবার এবং বিশ্বের ইতিহাসে সম্ভবত দ্বিতীয়বার—প্রায় আট বছরের পুরনো একটি ‘লিডলেস পেসমেকার’ সফলভাবে রোগীর শরীর থেকে বের করে আনলেন কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা। আলিপুরের এই হাসপাতালের দাবি, এত দীর্ঘ সময় পর হৃদপিণ্ডের ভেতর থেকে এই ধরনের ডিভাইস অপসারণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিরল ঘটনা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট: ৭৯ বছর বয়সি এক বৃদ্ধের হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়ায় (ব্র্যাডিআরিথমিয়া) ২০১৮ সালে তাঁর শরীরে একটি লিডলেস পেসমেকার বসানো হয়েছিল। দীর্ঘ সাত বছর আট মাস পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে সেই পেসমেকারটির ব্যাটারি শেষ হওয়ার সংকেত মেলে। সাধারণত এই ধরনের পেসমেকার ২-৪ বছরের মধ্যে পাল্টানো সহজ হলেও, ৭-৮ বছর পর তা বের করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হয়। কারণ, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ডিভাইসটির চারপাশে হৃদপিণ্ডের টিস্যু এমনভাবে তৈরি হয় যে তা পেশির সঙ্গে শক্তভাবে জুড়ে যায়।

অসম্ভবকে সম্ভব করলেন চিকিৎসকরা: হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অনিল মিশ্রের নেতৃত্বে চিকিৎসক দল সিদ্ধান্ত নেন, পুরনো ডিভাইসটি ভেতরে রেখে নতুনটি বসানো হবে না। কারণ, হার্টের ভেতর একাধিক ডিভাইস থাকলে ভবিষ্যতে জটিলতা বাড়তে পারে। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরনো ডিভাইসটি টেনে বের করে আনা হয় এবং ঠিক সেই জায়গাতেই নতুন প্রজন্মের ‘আভেইর ভিআর’ (Aveir VR) লিডলেস পেসমেকার প্রতিস্থাপন করা হয়।

সাফল্যের গুরুত্ব: চিকিৎসক অনিল মিশ্র জানান, এর আগে জাপান বা মালয়েশিয়াতে এই ধরনের অস্ত্রোপচার হলেও সে ক্ষেত্রে ডিভাইসের বয়স ছিল মাত্র দুই থেকে চার বছর। আট বছরের পুরনো ডিভাইস সফলভাবে সরানোর ঘটনা চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। এই সাফল্য লিডলেস পেসমেকার প্রযুক্তির প্রয়োগে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।