আবিরের উৎসবেও বিষাদ! রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নিয়ে সরব বিজেপি বিধায়িকা, দিলেন এক শান্তির বার্তা

আবিরে রাঙা দোল পূর্ণিমার সকালে উৎসবের আমেজ থাকলেও আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়িকা অগ্নিমিত্রা পালের কণ্ঠে শোনা গেল এক গভীর উদ্বেগের সুর। মঙ্গলবার বার্নপুর শিল্প শহরে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানালেন, উন্নয়ন বা রাজনীতির তর্কের আগে রাজ্যে শান্তি ফিরে আসাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় প্রার্থনা।

উৎসবের আড়ালে অস্থিরতার ছবি: এদিন বার্নপুর স্টেশন রোড থেকে শুরু হয়ে বারি ময়দান ও বাস স্ট্যান্ড পেরিয়ে ত্রিবেণী মোড় পর্যন্ত এক শান্তিনিকেতনী মেজাজে শোভাযাত্রাটি এগোয়। কচিকাঁচাদের নাচ আর বসন্তের গানে চারপাশ মুখরিত থাকলেও অগ্নিমিত্রার গলায় ছিল রাজনীতির ঊর্ধ্বে এক সামাজিক বার্তা। তিনি বলেন, “মতাদর্শের লড়াই থাকবেই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে শ্লীলতাহানি করব বা রাতের অন্ধকারে বাড়ি জ্বালিয়ে দেব। এই হিংস্র বাংলাকে আমি চিনি না।”

মূল্যবোধের অবক্ষয় ও নারী নিরাপত্তা: সমাজের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে বিধায়িকা বলেন, “বাংলা থেকে সৌজন্যবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। ছোটরা বড়দের সম্মান করছে না। এমনকি মহিলাদের সম্মান আজ টাকার বিনিময়ে কেনাবেচা হচ্ছে।” রাজনৈতিক বিভাজন যে সামাজিক সম্পর্ককে বিষিয়ে তুলছে, সেই ধ্রুব সত্যটিও এদিন সপাটে তুলে ধরেন তিনি।

রাজনীতিহীন বসন্ত উৎসব: আশ্চর্যজনকভাবে এদিন অগ্নিমিত্রার শোভাযাত্রায় কোনও দলীয় পতাকা দেখা যায়নি। আবির হাতে পথচলতি সাধারণ মানুষকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি যেন বার্তা দিতে চাইলেন—উৎসবের দিনে বিভাজন নয়, বরং মানবিকতা ও শান্তিই প্রধান। শিল্পায়ন বা কর্মসংস্থান নিয়ে শাসক-বিরোধী বিতর্ক চললেও, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই যে প্রথম কাজ, এদিন বার্নপুরের রাজপথ থেকে সেই দাবিই তুললেন অগ্নিমিত্রা পাল।