হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের, মাঝসমুদ্রে থমকে ৭০৬টি জাহাজ! ভারতের রান্নাঘরে কি টান পড়বে এলপিজি-র?

আশঙ্কাই সত্যি হলো। ইরান ও আমেরিকার ছায়াযুদ্ধে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। তেহরানের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি— এই জলপথে কোনো জাহাজ দেখলেই তা জ্বালিয়ে দেওয়া হবে। এই হুমকির জেরে বর্তমানে পূর্ব ও পশ্চিম মিলিয়ে ৭০৬টি বিশালাকায় জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কার মাঝসমুদ্রে আটকে পড়েছে। জলপথে নজরদারি চালানো সংস্থা ‘Kpler’ জানিয়েছে, গত ১ মার্চ মাত্র ৩টি জাহাজ এই প্রণালী পার হতে পেরেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৮৬ শতাংশ কম।
এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি (LPG) নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। কারণ, ভারতের প্রয়োজনীয় এলপিজি-র প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়, যার সিংহভাগ আসে এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ এলপিজি মজুত রয়েছে, নতুন জাহাজ না ঢুকলে তাতে বড়জোর দুই সপ্তাহ চলতে পারে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইন্ডিয়ান অয়েল (IOC), এইচপিসিএল (HPCL) এবং বিপিসিএল (BPCL) ইতিমধ্যেই উৎপাদন বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে।
অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ১০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলার ছাড়িয়েছে। সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার এবং কাতারের এলএনজি প্লান্টে হামলার জেরে ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এই অবস্থায় ভারত সরকার পেট্রোল ও ডিজেল রপ্তানি সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দেশের অভ্যন্তরীণ জোগান স্বাভাবিক রাখার কথা ভাবছে। বিকল্প হিসেবে রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেলের আমদানি আরও বাড়ানো হতে পারে বলে সূত্রের খবর।
কেন্দ্রীয় তৈলমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানিয়েছেন, বন্দরে থাকা তেল এবং ভাসমান জাহাজ মিলিয়ে ভারতের হাতে বর্তমানে ৭৪ দিনের জ্বালানি মজুত রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। যদি তাই হয়, তবে রান্নার গ্যাস বুকিংয়ের ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ বা রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।