একাকী ইরান ও ভাঙা ‘রেজিস্ট্যান্স’! মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে ভারতের প্রতিবেশীদের ওপর ঠিক কী প্রভাব পড়বে?

ইরানের মাটিতে আমেরিকা ও ইজরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান কেবল একটি দেশের ক্ষমতা বদলের চেষ্টা নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এক বিপজ্জনক খেলা। ইটিভি ভারতের বিশেষ বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য— যে জনতা কয়েকমাস আগে হিজাব বিরোধী আন্দোলনে খামেনেই প্রশাসনের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল, আজ বিদেশের মাটিতে সেই খামেনেইয়ের হত্যা তাদের মনে দেশপ্রেমের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কৌশল কি তবে বুমেরাং হতে চলেছে?

জনরোষ থেকে দেশপ্রেমের মোড়: কয়েক বছর আগে মাহসা আমিনির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ইরানি তরুণ প্রজন্ম যে বিদ্রোহ শুরু করেছিল, তা খামেনেই প্রশাসনের অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছিল। কিন্তু বিদেশের মাটিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করার বিষয়টিকে সে দেশের সাধারণ মানুষ এখন ‘সার্বভৌমত্বে আঘাত’ হিসেবে দেখছে। ফলে যে প্রশাসন পতনের মুখে ছিল, তারাই এখন নিজেদের ঘর গোছানোর বাড়তি সুযোগ পেয়ে গেল।

একাকী ইরান ও বন্ধুহীন নেটওয়ার্ক: বিশ্লেষণ বলছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকেই ইরানের মিত্র শক্তি বা ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’ ভাঙতে শুরু করেছে। গাজা আজ বিধ্বস্ত, হিজবুল্লার শীর্ষ নেতৃত্ব খতম, আর সিরিয়ায় আসাদ প্রশাসনের পতন ইরানকে কার্যত একঘরে করে দিয়েছে। হাউথিরা এখনও লড়াইয়ের কথা বললেও, ইরানের সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ তাদের দাপট অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

বিশ্ব অর্থনীতি ও চিনের যোগসূত্র: ইরানের ভৌগোলিক অবস্থানই তার সবথেকে বড় শক্তি। চিনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ইরান। চিনা পণ্য ইউরোপে পৌঁছানোর প্রধান পথও এটি। ফলে এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই, আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ কায়েম করাও পশ্চিমী দুনিয়ার অন্যতম লক্ষ্য। তবে প্রতিবেশি মুসলিম দেশগুলো এখন দোটানায়— তারা কি আমেরিকার হাত ধরবে, না কি নিরপেক্ষ থেকে নিজেদের পিঠ বাঁচাবে? সময় তার উত্তর দেবে।