রক্ষকই ভক্ষক? সিভিক ভলান্টিয়ারকে হেনস্তার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে, স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ কমিশনের

তিলোত্তমায় ফের খাকি উর্দির বিরুদ্ধে নারী নিগ্রহের মারাত্মক অভিযোগ। এবার কলকাতা পুলিশের এক খোদ ওসি-র (Officer-in-Charge) বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ আনলেন এক মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য পুলিশ মহলে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সরাসরি হস্তক্ষেপ করল জাতীয় মহিলা কমিশন (NCW)। স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কমিশনের কড়া বার্তা— “রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তবে সাধারণ মানুষ কার ওপর ভরসা করবে?”
জাতীয় মহিলা কমিশন এই ঘটনায় রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালককে (DGP) অবিলম্বে এফআইআর (FIR) দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে। কমিশনের মতে, উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর আস্থা কমিয়ে দেয়। ঘটনায় লালবাজারের তরফে এখনও পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ তদন্ত নিয়ে কোনও মন্তব্য করা না হলেও, জাতীয় মহিলা কমিশন অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
৫ দিনের চরম সময়সীমা: জাতীয় মহিলা কমিশন এই ঘটনার তদন্ত শেষ করার জন্য মাত্র ৫ দিনের ‘ডেডলাইন’ বা সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে ডিজিপি-কে একটি বিস্তারিত ‘অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট’ জমা দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্টে শুধু এফআইআর নয়, তদন্তের অগ্রগতি এবং পুলিশ ইউনিটগুলোতে মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তারও উল্লেখ থাকতে হবে।
নিরাপত্তায় কড়াকড়ি: অভিযুক্ত ওসির বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করার পাশাপাশি কমিশন নির্দেশ দিয়েছে যাতে ওই মহিলা সিভিক ভলান্টিয়ার কোনওভাবেই প্রতিহিংসার শিকার না হন। প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাতে লোপাট না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা ফের একবার পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।