ভারতকে তেল দেওয়া বন্ধ করল ইরান! কেবল দুই বন্ধু দেশের জন্য খোলা থাকবে ‘হরমুজ’, বাড়ছে হাহাকার

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন এবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে। যুদ্ধের চতুর্থ দিনে ইরানের খোদ রাষ্ট্রপতি ভবনে আছড়ে পড়ল ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বাহিনীর মিসাইল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিওরিটি কাউন্সিল বিল্ডিং এবং ওল্ড পার্লামেন্ট হাউসের কাছে একের পর এক এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে আমেরিকা। এই ঘটনার পরই তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ওয়াশিংটনের সাথে আলোচনার পথ চিরতরে বন্ধ। ইরান এখন এক লম্বা এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
পাল্টা হুমকি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আকাশপথের পাশাপাশি ইরানে গ্রাউন্ড অপারেশন বা স্থলপথে সেনা অভিযান শুরু করবে আমেরিকা। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের মিসাইল ব্যবস্থা, ড্রোন এবং নৌঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ছক কষছে হোয়াইট হাউস। পাল্টাপাল্টি হিসেবে রিয়াধে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালিয়েছে ইরান।
ভারতের জন্য অশনি সংকেত: ভারতের অর্থনীতির জন্য সবথেকে বড় দুঃসংবাদটি দিয়েছে ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড। হরমুজ প্রণালী দিয়ে ভারতীয় তেলবাহী জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে ইরান। তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, এই জলপথ কেবল তাদের বন্ধু দেশ রাশিয়া এবং চিনের জন্য খোলা থাকবে। অন্য কোনো দেশের জাহাজ এই পথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তা সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া হবে।
মজুত তেলের ভাণ্ডার কতদিন চলবে? ভারত তার জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আমদানি করে। বর্তমানে ভারতের কাছে মাত্র ৫০ দিনের অপরিশোধিত তেল মজুত আছে (২৫ দিন কাঁচা তেল এবং ২৫ দিন পরিশোধিত)। এছাড়া ২৫ দিনের মতো এলএনজি (LNG) ও এলপিজি (LPG) মজুত রয়েছে। যদি দ্রুত এই জলপথ ভারতের জন্য না খোলা হয়, তবে দেশে পেট্রোল-ডিজেলের আকাল এবং আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি কেউ আটকাতে পারবে না। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে দেড়শোর বেশি জাহাজ আটকে আছে, যা বিশ্বজুড়ে তেলের হাহাকার তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।