ইজরায়েলে আর নিরাপদ নয় মার্কিনরা! নিজেদের ব্যবস্থা নিজেরাই করুন, হাত তুলে নিল ট্রাম্প প্রশাসন!

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার চরম নাটকীয় মোড়। ইরান ও ইজরায়েলের ওপর যৌথ হামলার উত্তাপে যখন গোটা বিশ্ব কাঁপছে, ঠিক তখনই নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে হাত তুলে নিল খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইজরায়েলে আটকে পড়া মার্কিন নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়া বা তাঁদের নিরাপদে বের করে আনার মতো পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নেই। মঙ্গলবার জেরুসালেমে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে জারি করা এই নজিরবিহীন নির্দেশিকায় কার্যত ডামাডোল শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে।

সংবাদসূত্রে খবর, ইজরায়েলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের উদ্দেশে দূতাবাস জানিয়েছে, যারা এই মুহূর্তে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ ছাড়তে চাইছেন, তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নিতে হবে। প্রশাসন কোনও উদ্ধারকার্য বা বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে পারছে না। একসময়ের দাপুটে পরাশক্তির এই অসহায় আত্মসমর্পণ দেখে বিস্মিত কূটনৈতিক মহল। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জারি করা সতর্কবার্তায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, “প্রশাসন এই মুহূর্তে নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার অবস্থায় নেই।”

পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন মঙ্গলবার সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদেশ মন্ত্রক একটি জরুরি নির্দেশিকা জারি করে। সেখানে শুধুমাত্র ইজরায়েল নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের ১২টিরও বেশি দেশ থেকে মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ইরান ও ইজরায়েলের ওপর আমেরিকার যৌথ হামলার পর থেকেই আরব বিশ্বের ক্ষোভের আগুনে ঘি পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে যে, খোদ আমেরিকার মতো রাষ্ট্রও এখন তাদের নাগরিকদের জন্য ‘নিরাপদ করিডোর’ তৈরি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই ‘ব্যর্থতা স্বীকার’ মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রভাব কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। যেখানে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিক পর্যটন বা ব্যবসার কাজে ইজরায়েলে অবস্থান করছেন, সেখানে তাঁদের ‘নিজের ভাগ্য নিজের হাতে’ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চরম অরাজকতা তৈরি করতে পারে। একদিকে ইরানের ওপর মিসাইল হামলা, অন্যদিকে নিজ দেশের নাগরিকদের সুরক্ষায় অক্ষমতা— সব মিলিয়ে এক চরম অস্থির সময়ের সাক্ষী থাকছে বিশ্ববাসী। এখন দেখার, এই যুদ্ধের আঁচ প্রশমিত হয় নাকি মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ধ্বংসলীলার দিকে এগিয়ে যায়।