বাঁকুড়ায় মৃত্যুকূপ! মাঝখান থেকে দুমড়ে যাওয়া সেতুর ওপর দিয়েই ছুটছে লরি, প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলছে পারাপার

বালির স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে এক কঙ্কালসার কাঠামো। মাঝখান থেকে বসে গিয়ে ইংরেজি ‘V’ অক্ষরের আকার নিয়েছে আস্ত একটি কংক্রিটের সেতু। দেখে মনে হবে যেন কোনো ধ্বংসস্তূপ, কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভাঙা স্তম্ভের ওপর দিয়েই গত দু’বছর ধরে চলছে সাইকেল, বাইক, এমনকি ভারী মালবাহী ট্রাকও! বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের রামপুর এলাকায় শালী নদীর ওপর এই বিপজ্জনক সেতুটি এখন কয়েক হাজার মানুষের কাছে মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২২ সালের প্রবল বর্ষায় নদীর স্রোতে বালি ও মাটি সরে যাওয়ায় সেতুর একাধিক স্তম্ভ বসে যায়। তখন থেকেই সেতুটি বিপজ্জনকভাবে ঝুলে রয়েছে। প্রশাসনের তরফে ‘ভাঙা সেতু’ লিখে একটি বোর্ড টাঙিয়েই দায় সারা হয়েছে। কিন্তু বিকল্প কোনও রাস্তা না থাকায় হামিরহাটি, পিয়ারবেড়া ও ধুলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষকে বাধ্য হয়েই এই ‘মৃত্যুকূপ’ পার হতে হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ভগ্নদশায় সেতু পার হতে গিয়ে ইতিমত্যেই এক শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে, তবুও হুঁশ ফেরেনি প্রশাসনের।

ভোটের মুখে এই সেতুকে ঘিরেই এখন সরগরম সোনামুখীর রাজনীতি। বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই সাধারণ মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। পাল্টাপাল্টি হিসেবে তৃণমূল নেতৃত্ব স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক ও সাংসদকে কাঠগড়ায় তুলছে। তবে সোনামুখীর বিডিও নীলোৎপল চক্রবর্তী কিছুটা আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, “ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দু’দিন আগে সার্ভের কাজও শেষ হয়েছে।” এখন দেখার, ভোটের আগেই এই ভাঙা সেতুর ভাগ্য ফেরে কি না।