“বিজেপি দায়ী নয়!” হিন্দু-মুসলিম নাম বাদ যাওয়া নিয়ে বিস্ফোরক লকেট, আসল সত্যিটা কী?

উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালীতে বিজেপি-র ‘পরিবর্তন যাত্রা’ ঘিরে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এসে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া সংক্রান্ত এক জ্বলন্ত ইস্যুতে মুখ খুললেন বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, এনআরসি বা ভোটার তালিকা সংশোধনী নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তার সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনও সম্পর্ক নেই।

সন্দেশখালীর বরের বাড়িতে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে লকেট বলেন, “যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেননি বা যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, সেটা সম্পূর্ণ যান্ত্রিক ও প্রশাসনিক বিষয়। অনেক মানুষ, সে হিন্দু হোক বা মুসলিম, প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা কাগজ জমা দিতে পারেননি। ফলে সংগত কারণেই তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধীরা এই ইস্যুটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে লকেট বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা নিয়ম মেনেই কাজ করে। যারা বলছে বিজেপি এর পিছনে আছে, তারা আসলে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে এবং ভুল বার্তা দিচ্ছে।” তিনি আরও জানান যে, এই তালিকায় নাম বাদ পড়ার ক্ষেত্রে কোনও ধর্ম দেখা হয়নি; বহু হিন্দু এবং মুসলিম পরিবারের নাম বাদ গিয়েছে শুধুমাত্র নথির অভাবে।

লকেটের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বসিরহাট মহকুমায় রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, বিজেপি সুকৌশলে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে লকেট চট্টোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, বিজেপি কাউকেই বঞ্চিত করতে চায় না, বরং নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার পক্ষপাতি। এদিনের সভায় লকেট চট্টোপাধ্যায় সন্দেশখালীর সামগ্রিক পরিস্থিতি এবং তৃণমূল সরকারের ‘ব্যর্থতা’ নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন।