দোলেও মমতার ভবানীপুরেই শুভেন্দুর শোভাযাত্রা, নেপথ্যে কী কারণ?

দোল পূর্ণিমার সকালে রাজনীতির রঙে রঙিন হয়ে উঠল ভবানীপুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাস তালুক তথা নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে হঠাৎই হাজির বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দোল উৎসবে মেতে ওঠার পাশাপাশি বিস্ফোরক রাজনৈতিক বার্তা দেন তিনি।

‘নাস্তিকতা ও সেকুলারিজম নিপাত যাক’ মঙ্গলবার সকালে ভবানীপুরে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “নাস্তিকতা নিপাত যাক, সেকুলারিজম নিপাত যাক। হিন্দুরা যাতে পশ্চিমবঙ্গে সুরক্ষিত থাকে, সেই প্রার্থনাই করব।” এরপরই দলীয় কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ‘গোরা গোরা গৌরাঙ্গ’ গান ধরেন এবং ‘হিন্দু-হিন্দু ভাই-ভাই’ স্লোগান তোলেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর এই ‘হিন্দুত্ববাদী’ অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

ভবানীপুরে শুভেন্দুর ‘ওয়ার রুম’ ও আগামীর পরিকল্পনা সাম্প্রতিক সময়ে ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর যাতায়াত চোখে পড়ার মতো বেড়েছে। শুধুমাত্র সফর নয়, সেখানে একটি আধুনিক ‘ওয়ার রুম’ও তৈরি করেছেন তিনি। নিয়মিত বৈঠক ও কর্মসূচি দেখে জল্পনা তুঙ্গে— ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কি তবে ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু?

বিশ্লেষকদের নজর: পাল্টাবে কি চালচিত্র? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর শক্ত ঘাঁটিতে সংগঠন মজবুত করাই এখন শুভেন্দুর প্রধান লক্ষ্য। ২০২১-এর নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জিতে নিজের আসন পুনরুদ্ধার করেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্বের ধারণা, আগামী নির্বাচনেও মুখ্যমন্ত্রী এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আর সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখেই এখন থেকেই কড়া চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন শুভেন্দু।

একুশে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু ম্যাজিক দেখা গিয়েছিল, এবার ছাব্বিশে ভবানীপুর কি বাংলার রাজনীতির এপিসেন্টার হতে চলেছে? শুভেন্দুর ঘন ঘন সফর সেই জল্পনাকেই আরও উসকে দিচ্ছে।