পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের দাবানল! কুয়েত-দুবাইয়ে মার্কিন ঘাঁটিতে মিসাইল হামলা, ইরানে আটকে কালনার দুই যুবক!

প্রতিবেদন:
উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি। ইরান ও আমেরিকাকে ঘিরে সংঘর্ষ ক্রমশ বিস্তৃত আকার নিচ্ছে। কুয়েত, তুরস্ক, দুবাই ও বাহরিনে মার্কিন সেনাঘাঁটি ও দূতাবাসকে লক্ষ্য করে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কুয়েত ও দুবাইয়ের মার্কিন দূতাবাস সংলগ্ন এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গিয়েছে। ফলে চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে। এই যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার কালনার নিভুজি কলবাড়ি এলাকার দুই যুবকের পরিবার।

ইরানে আটকে পশ্চিমবঙ্গের দুই বাসিন্দা
২৮ বছরের মামন শেখ প্রায় চার বছর আগে কাজের সূত্রে কুয়েতে পাড়ি দেন। সেখানে রাঁধুনির কাজ করতেন তিনি। সবকিছু স্বাভাবিকভাবেই চলছিল। কিন্তু হঠাৎ যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মামন ও তাঁর সহকর্মীরা। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, যেখানে মামন থাকেন, সেখান থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে গতকাল রাতে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই নিরাপত্তার কারণে তাঁরা কার্যত গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বাইরে বেরোনো একপ্রকার বন্ধ। মামন বাড়ি ফেরার চেষ্টা করলেও বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কালনায় থাকা তাঁর পরিবারের সদস্যরা চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে মামনের খুড়তুতো ভাই সোহেল শেখ দুবাইয়ের শারজায় সোনার ডিজাইনের কাজ করেন। সেখানেও একই রকম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সোমবার বিকেল প্রায় পাঁচটা নাগাদ ভিডিও কলে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে সোহেল জানান, “রবিবার রাতে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে কোনওরকমে প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। এখন শুধু বাড়ি ফিরতে চাই”। কালনায় থাকা দুই পরিবারের দাবি, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাঁদের সন্তানদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করুক। কাতর আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা—যুদ্ধের আগুন থেকে দূরে, সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বাড়ি ফিরুক তাঁদের প্রিয়জনরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার তিনি বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগে আগামীদিনে আরও সেনার প্রাণ যেতে পারে। আর সোমবার সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান ৪-৫ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলতে পারে। নিহত আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের অনুগামীদের প্রতিশোধের ধরন দেখে বিশেষজ্ঞদের অনেকেই মনে করছেন, আমেরিকা-ইজ়রায়েল যৌথবাহিনীর পক্ষে ইরানকে সহজে পরাস্ত করা সম্ভব হবে না। এবার সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়েই ট্রাম্প জানান, ‘‘দরকার পড়লে আমেরিকা আরও দীর্ঘ সময় ধরে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত।’’