‘সরকার গড়লেই ৪৫ দিনে সপ্তম বেতন কমিশন!’ রায়দিঘির জনসভা থেকে সরকারি কর্মীদের বড় টোপ অমিত শাহের

বাংলার আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সোমবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরের রায়দিঘিতে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র এক বিশাল জনসভা থেকে তিনি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দেন, যার মূল লক্ষ্য রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং বেকার যুবক-যুবতীরা। শাহ স্পষ্ট ঘোষণা করেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠনের মাত্র ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা হবে।”
দীর্ঘদিনের আর্থিক বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেন শাহ। পাশাপাশি, কর্মসংস্থান নিয়ে এক বড় পরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ পেশ করেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২৬ ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। শুধু তাই নয়, নিয়োগে বিলম্বের কারণে যে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের জন্য সরকারি চাকরির পরীক্ষায় ৫ বছরের বিশেষ বয়সসীমা ছাড় দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি।
এদিনের সভায় তৃণমূল সরকারকে দুর্নীতির ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করেন শাহ। তিনি বলেন, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে মাফিয়া রাজ— সবকিছুর অবসান ঘটবে বিজেপির শাসনে। ২৬,০০০ শিক্ষক নিয়োগের জট আইনসম্মত ও স্বচ্ছ উপায়ে খোলার আশ্বাস দিয়ে তিনি জানান, দুর্নীতিবাজদের কোনো রাজনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া হবে না। এমনকি অপরাধীদের পরিবারকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
আইন-শৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশ নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন শাহ। তাঁর কথায়, “রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।” অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তিনি বাংলার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ডাক দেন। নারী ক্ষমতায়নের জন্য ৫,৭০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়ে শাহ বুঝিয়ে দিলেন, ছাব্বিশের লড়াইয়ে সুশাসন আর কর্মসংস্থানকেই প্রধান অস্ত্র করছে গেরুয়া শিবির।