‘আর কি মা তারার দর্শন পাব?’ বীরভূমে দাঁড়িয়ে বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয়ংকর আশঙ্কায় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী

বাংলার রাজনৈতিক রণক্ষেত্রে এবার সরাসরি সংঘাত মহারাষ্ট্র বনাম পশ্চিমবঙ্গের। সোমবার বীরভূমের পুণ্যভূমি তারাপীঠে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করতে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। সঙ্গে ছিলেন মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। মা তারার মন্দিরে পুজো দিয়েই ফড়নবিশ দাবি করেন, যে পথে বাংলা চলছে, তাতে আগামী দিনে মা তারার দর্শন পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।

মমতা সরকারকে ‘তোষণ’ ও ‘বেকারত্ব’ ইস্যুতে বিঁধে ফড়নবিশ বলেন, “মমতা দিদি চান বাংলাদেশিরা এখানে এসে রোজগার করুক, আর বাংলার ভূমিপুত্ররা পরিযায়ী শ্রমিক হয়ে ভিন রাজ্যে যাক। আগে কলকাতা ছিল ভারতের আর্থিক রাজধানী, আজ সেই জায়গা দখল করেছে মুম্বই। বাংলায় লগ্নি করতে শিল্পপতিরা ভয় পাচ্ছেন, অথচ মহারাষ্ট্রে বিদেশি বিনিয়োগের বন্যা বইছে।”

এদিন এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গ টেনে এক হাত নেন ফড়নবিশ। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “মহাভারতে কৌরবদের ১০০ ভাই ছিল, কিন্তু বাংলায় একজনের ২০০ সন্তান দেখা যাচ্ছে! কৌরবদের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে এই সরকার।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বাংলার মনীষী বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘বন্দেমাতরম’ গেয়েই মহারাষ্ট্রের বিধানসভা অধিবেশন শুরু হয়, অথচ সেই বাংলাতেই আজ মনীষীদের আদর্শ বিপন্ন।

সভার অন্যতম আকর্ষণ মিঠুন চক্রবর্তীও সুর চড়ান শিক্ষা ও সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ নিয়ে। তিনি অভিযোগ করেন, “রাজ্যের ৫০ হাজার প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নেই, অথচ মাদ্রাসার জন্য ৫,৭১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।” মহাগুরুর সাফ বার্তা, “আমাদের আর কোনো দেশ নেই, তাই জানপ্রাণ দিয়ে এই লড়াই জিততেই হবে।”