‘৬১ জনের মৃত্যু, তাও লড়াই ছাড়ব না!’ মেজাজ হারিয়ে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে ‘অশুভ শক্তি’ তোপ মমতার

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার আগেই রাজনীতির ভরকেন্দ্র হয়ে উঠল ভবানীপুর। সোমবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত হোলি ও দোল উৎসবের মঞ্চ থেকে একদিকে যেমন উৎসবের মেজাজে ডান্ডিয়া নাচতে দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে, তেমনই অন্যদিকে বিজেপি ও জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে ‘অশুভ শক্তি’ বলে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি।
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিস্ফোরক দাবি করেন, তাঁর নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে ষড়যন্ত্র করে প্রায় ৬০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি বলেন, “১০ হাজার থেকে ৩০ হাজার নাম কাটলেও কিছু হতো না, কিন্তু ৬০ হাজার নাম বাদ দিলেও আমিই জিতব। যদি একটি মাত্র ভোটও অবশিষ্ট থাকে, তাহলেও ভবানীপুর থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই জয়ী হবে।”
বিজেপিকে নিশানা করে তৃণমূলনেত্রী বলেন, “ওরা ভীরু, তাই পিছন থেকে আক্রমণ করছে। আমরা বিভাজনের রাজনীতি করি না, মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করি। কিন্তু এই অশুভ শক্তির চক্রান্তের কাছে মাথা নত করব না।” ভোটার তালিকায় এই ‘অনিয়ম’-এর প্রতিবাদে আগামী ৬ এপ্রিল থেকে ধরনায় বসার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, এই লড়াই কেবল একটি কেন্দ্রের নয়, বরং দেশের প্রতিটি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াই।
উল্লেখ্য, এদিন প্রশাসনিক তৎপরতাও ছিল তুঙ্গে। এসআইআর (SIR) পর্বে মৃত ৬১ জনের পরিবারের হাতে হোমগার্ডের চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া ৩ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের বর্ধিত অংশের উদ্বোধন করেন তিনি। উৎসবের মেজাজে উপস্থিত কচিকাচাদের সঙ্গে সেলফি তুললেও বক্তৃতায় তাঁর সুর ছিল যথেষ্ট চড়া, যা স্পষ্ট করে দিল যে ২০২৬-এর লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও নারাজ তিনি।