এমবিবিএস পড়ার স্বপ্ন কি যুদ্ধের আগুনে ছাই? তেহরানে আটকে শ্রীনগরের সোবিয়া, উদ্ধারের আর্জি দিল্লিতে

গন্তব্য ছিল স্বপ্নপূরণ, কিন্তু নিয়তি নিয়ে এল যুদ্ধবিধ্বস্ত এক নরকে। এমবিবিএস পড়ার জন্য কয়েক মাস আগেই ইরান পাড়ি দিয়েছিলেন শ্রীনগরের ১৮ বছর বয়সী তরুণী সোবিয়া খান। কিন্তু বর্তমানে ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের ভয়াবহতায় তেহরানের এক হস্টেল রুমে সিঁটিয়ে আছেন তিনি। বাইরে শুধু মিসাইলের গর্জন আর বোমার শব্দ। ফুরিয়ে আসছে খাবার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা— এমন পরিস্থিতিতে সোবিয়ার পরিবারের কান্নায় ভারী হচ্ছে শ্রীনগরের আকাশ।

স্বপ্ন যখন দুঃস্বপ্ন ২০২৫-এর শেষে পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে বিবাদের জেরে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ এখন চরম আকার নিয়েছে। বন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়, জারি হয়েছে কার্ফু। সোবিয়ার মতো প্রায় ১২০০ ভারতীয় পড়ুয়া এখন ইরানে কার্যত বন্দি। সোবিয়ার দাদা সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “বোনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। কাল মাত্র এক মিনিটের জন্য কথা হয়েছিল। ও শুধু কাঁদছিল। চারপাশে শুধু বিস্ফোরণের শব্দ। মা-বাবা খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।”

ভারত সরকারের কাছে আর্জি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে কয়েক গুণ। পশ্চিম এশিয়ার রণক্ষেত্র থেকে সন্তানদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের কাছে ‘রেসকিউ মিশন’-এর কাতর আর্জি জানিয়েছেন দুশ্চিন্তায় থাকা পরিবারগুলো। তেহরানের হস্টেল রুমে আটকে পড়া কয়েকশ ভারতীয় পড়ুয়ার ভবিষ্যৎ এখন দিল্লির সিদ্ধান্তের ওপর ঝুলে রয়েছে।