৫ বছরের টার্গেট ৫০ বিলিয়ন ডলার! মোদি-কার্নি বৈঠকে ভারত-কানাডা সম্পর্কের নতুন সূর্যোদয়

কূটনৈতিক টানাপোড়েন সরিয়ে রেখে এক নতুন অর্থনৈতিক দিগন্তের সূচনা করল ভারত ও কানাডা। সোমবার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে এক ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকের মূল নির্যাস হলো— ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যাওয়া এবং ভারতকে ২.৬ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইউরেনিয়াম সরবরাহ করা।

পারমাণবিক শক্তিতে বড় স্বস্তি ভারতের অসামরিক পারমাণবিক শক্তি খাতের জন্য এই চুক্তি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কানাডা ২.৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির অধীনে ভারতকে নিরবচ্ছিন্ন ইউরেনিয়াম সরবরাহ করবে। এর পাশাপাশি ছোট এবং মডিউলার পারমাণবিক চুল্লি (SMR) তৈরির ক্ষেত্রেও দুই দেশ প্রযুক্তিগত সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদি জানান, দুই দেশের সম্পর্ক এখন পারস্পরিক বিশ্বাস এবং ইতিবাচক মনোভাবে পূর্ণ।

সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে একসুর বৈঠকে বাণিজ্য ছাড়াও গুরুত্ব পেয়েছে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা। খলিস্তানি বিচ্ছিন্নতাবাদ বা চরমপন্থা নিয়ে অতীতে দু’দেশের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা মেটাতে মোদি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদ এবং মৌলবাদ সমগ্র মানবতার জন্য চ্যালেঞ্জ। বিশ্বশান্তি রক্ষায় দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।” আলোচনার টেবিলে পশ্চিম এশিয়ার অস্থির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই রাষ্ট্রনেতা।

বিনিয়োগের নতুন রোডম্যাপ বর্তমানে ভারত ও কানাডার বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩ বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে আগামী চার বছরে একে ৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছে দেওয়ার। ইতিমাজেই কানাডার বিভিন্ন তহবিল ভারতে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এবার লক্ষ্য হলো ‘কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট’ বা CEPA দ্রুত চূড়ান্ত করা। প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদন থেকে শুরু করে গ্রিন হাইড্রোজেন— সব ক্ষেত্রেই এবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলবে দিল্লি ও অটোয়া।