তফশিলি ভোটে থাবা বসাতে মাস্টারস্ট্রোক! ২০২৬-এর লড়াইকে জাতীয় যুদ্ধে রূপ দিলেন অভিষেক

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে স্রেফ রাজ্যের লড়াই হিসেবে দেখছে না তৃণমূল কংগ্রেস। বরং বাংলার মাটি থেকেই দিল্লির মসনদ কাঁপানোর রণকৌশল সাজাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কলকাতার নজরুল মঞ্চে ‘তপশিলির সংলাপ’ কর্মসূচির সূচনা করতে গিয়ে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বাংলায় বিজেপিকে ৫০ আসনের নীচে নামাতে পারলে ২০২৯ পর্যন্ত দিল্লিতে বিজেপির সরকার টিকবে না।”
লক্ষ্য ৮৪টি সংরক্ষিত আসন অভিষেকের এই বক্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পাটিগণিত। রাজ্যের ৮৪টি এসসি ও এসটি সংরক্ষিত আসনকে পাখির চোখ করছে ঘাসফুল শিবির। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি নির্দেশ দেন, “এই ৮৪টি আসনের দায়িত্ব আপনাদের নিতে হবে। তফশিলি ভাই-বোনেরা আশা নিয়ে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন, কিন্তু বদলে পেয়েছেন শুধুই অপমান।” বাবাসাহেব আম্বেদকরের লড়াইয়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি আম্বেদকরের নামকে ‘ফ্যাশন’ বানিয়ে ফেলেছে, অথচ বাস্তবে দলিত ও আদিবাসীদের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
দিল্লি বনাম বাংলা: সংঘাতের সুর এদিনের মঞ্চ থেকে কেন্দ্রীয় বঞ্চনা নিয়ে তোপ দাগেন অভিষেক। এনসিআরবি-র তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তফশিলিদের ওপর অত্যাচারে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিই শীর্ষে। এমনকি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাম মন্দির উদ্বোধনে আমন্ত্রণ না জানানো নিয়েও সরব হন তিনি। সংবিধান বদলের আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিষেক বলেন, “২৪০ সাংসদ নিয়ে যারা সংবিধান পাল্টাতে চায়, তারা আবার ক্ষমতায় এলে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির অধিকার খর্ব হবে।”
কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের দাবি করা ১০০ দিনের কাজ ও আবাস যোজনার বকেয়া নিয়ে মোদী সরকারকে খোলা চ্যালেঞ্জ জানান অভিষেক। তিনি বলেন, “গত পাঁচ বছরে বাংলায় বাড়ির জন্য বা ১০০ দিনের কাজে ৫ পয়সা দিয়েছে দেখাতে পারলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব।” পালটা হিসেবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সাফল্য ও রাজ্যের প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।
কর্মীদের প্রতি কড়া বার্তা নির্বাচনী দামামা বাজিয়ে অভিষেক কর্মীদের আহ্বান জানান, “খাওয়া-ঘুম-স্নান ছাড়া আগামী দু’মাস বাকি সময়টা বাংলা মায়ের জন্য দিন।” তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত বাংলার মানুষকে কেউ ‘ভাতে মারতে’ পারবে না। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর নির্বাচনকে দিল্লির অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে তুলে ধরে আসলে তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করতে চাইলেন অভিষেক।