খামেনেই হত্যার বদলা! ইরানের মিসাইল বৃষ্টিতে শ্মশান তেল আভিভ, ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে কাঁপছে ইজরায়েল?

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরান যে এতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে, তা হয়তো কল্পনাও করতে পারেনি তেল আভিভ বা ওয়াশিংটন। ১ মার্চ, ২০২৬—এই দিনটি ইতিহাসের পাতায় এক রক্তক্ষয়ী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল। আমেরিকার যৌথ হামলায় খামেনেই-এর মৃত্যুর বদলা নিতে ইজরায়েলের ওপর আক্ষরিক অর্থেই আগুনের বৃষ্টি করল তেহরান।

ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের ছোঁড়া ঝাঁকে ঝাঁকে মিসাইল আছড়ে পড়েছে ইজরায়েলের বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আভিভের গুশ দান এলাকায়। মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে একের পর এক বহুতল। যে শহর কয়েক ঘণ্টা আগেও আলোয় ঝলমল করছিল, ইরানের হামলায় তা এখন ধ্বংসস্তূপ। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’কে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জেরুজালেমের হৃৎপিণ্ডেও আঘাত হেনেছে ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে খোদ প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে গেলেও চারদিকের হাহাকার আর ধ্বংসলীলা দেখে স্তম্ভিত গোটা বিশ্ব।

এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়েছিল গত রবিবার, যখন ইরান-আমেরিকা সংঘাত চরম আকার নেয়। ইরানের মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন-ইজরায়েলি যৌথ মিসাইল হামলায় ১৮০ জন নিরীহ পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। সেই শোক আর ক্ষোভকে শক্তিতে পরিণত করে সোমবার থেকে সর্বাত্মক যুদ্ধ ঘোষণা করে ইরান। শুধুমাত্র ইজরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের মোট ৪টি দেশে একযোগে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে তেহরান। কাতার, কুয়েত, জর্ডন, বাহরিন, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিকেও নিশানা করেছে তারা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মতে, এই সংঘাত অন্তত আগামী ৫ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যদিও এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন যে লড়াই ৪ সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি বলছে ভিন্ন কথা। দুবাইয়ের মতো বিলাসবহুল শহরেও এখন মিসাইল আর ড্রোনের কান ফাটানো শব্দে মানুষের ঘুম উড়ছে। পশ্চিম এশিয়া এখন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড়িয়ে, যা থেকে বিশ্বযুদ্ধের দাবানল ছড়িয়ে পড়া কেবল সময়ের অপেক্ষা।