তেল ৮২ ডলার পার! তবুও দাম বাড়বে না পেট্রোল-ডিজেলের? সরকারের ‘মাস্টারপ্ল্যান’ ফাঁস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশছোঁয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়ে গেলেও ভারতীয় গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির খবর শুনিয়েছে কেন্দ্র। তেলের দাম বাড়ার বদলে আপাতত তা স্থিতিশীল থাকছে। মূলত ভারত সরকারের কৌশলগত মজুত (Strategic Reserve) এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার কারণেই এই কঠিন সময়েও দেশবাসীর পকেটে টান পড়ছে না।

হরমুজ প্রণালী ও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা পশ্চিম এশিয়ার উত্তেজনার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যে পথ দিয়ে ভারতের অর্ধেক অপরিশোধিত তেল সরবরাহ হয়। কিন্তু বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে এই মুহূর্তে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ব্যারেল বাণিজ্যিক তেলের মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ সাময়িকভাবে ব্যাহত হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়বে না।

৪৫ দিনের ব্যাকআপ ও কৌশলগত মজুত (SPR) পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী রাজ্যসভায় আশ্বস্ত করেছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক ধাক্কা সামলাতে ভারত প্রস্তুত। বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালোর এবং পাদুরের ভূগর্ভস্থ গুহাগুলিতে ৫.৩ মিলিয়ন টন তেলের কৌশলগত মজুত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হলেও ভারত অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ দিন দেশের তেলের চাহিদা মেটাতে সক্ষম। এমনকি কৌশলগত রিজার্ভ এবং বাণিজ্যিক মজুত মিলিয়ে ভারত প্রায় ৭৪ দিন জ্বালানি নিরাপত্তা দিতে পারে।

মুশকিল আসান হবে রাশিয়া উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে তেল আসতে সমস্যা হলে ভারত আবারও রাশিয়ার দিকে ঝুঁকবে। রাশিয়ার তেল রুটগুলি হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় শোধনাগারগুলি দ্রুত রাশিয়া থেকে বিকল্প তেল আমদানি করতে শুরু করবে। এছাড়া প্রয়োজনে সরকার আবগারি শুল্ক কমিয়ে বা মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিল ব্যবহার করে পেট্রোল-ডিজেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখবে।