‘১ ভোটে হলেও ভবানীপুরে জিতবই!’ এসআইআর-বিতর্কে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতার

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার ঠিক আগেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে তিনি নিজের পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেই লড়বেন। তবে ভোটার তালিকা (SIR) থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এদিন প্রবল ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি। মমতার কথায়, “বিজেপি চক্রান্ত করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিলেও, আমি ভবানীপুরে এক ভোটে হলেও জিতব।”

ভবানীপুরে ৪৭ হাজার নাম বাদ, তোপ মমতাকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা গিয়েছে, ভবানীপুর কেন্দ্রে ৪৭ হাজারের বেশি নাম বাদ পড়েছে। এছাড়াও প্রায় ১৪ হাজার নাম এখনও অমীমাংসিত (Unresolved) তালিকায় রয়েছে। এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে মমতা বলেন, “ভবানীপুর একটি ছোট কেন্দ্র, যেখানে মাত্র ২.৬ লক্ষ ভোটার। সেখানে এত নাম কীভাবে বাদ যায়? দিল্লির বিজেপি অফিস থেকে নাম কাটা হচ্ছে আর এখানে ওরা রথযাত্রা করছে।” তাঁর অভিযোগ, ইভিএমে লড়াই করতে না পেরে পিছন থেকে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকারে কোপ মারছে বিজেপি।

সুপ্রিম কোর্ট ও ধরনার হুঁশিয়ারি এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন মমতা। এদিন তিনি বলেন, “আমি অনেক ধৈর্য ধরেছি, শান্তিপূর্ণভাবে সহযোগিতাও করেছি। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে আসল ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে আমি ধরনায় বসব।” তাঁর বিশ্বাস, হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ এই ‘পিছন থেকে আক্রমণের’ যোগ্য জবাব দেবেন।

বিজেপির পাল্টা কটাক্ষ মমতার এই আত্মবিশ্বাসের সুরকে ‘হেরে যাওয়ার ভয়’ হিসেবে দেখছে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতা জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় কটাক্ষ করে বলেন, “একুশের উপনির্বাচনে যিনি রেকর্ড ভোটে জিতেছিলেন, তাঁকে ভোটের দু’মাস আগে কেন বলতে হচ্ছে যে তিনি ১ ভোটে হলেও জিতবেন? এর থেকেই পরিষ্কার যে তৃণমূলের মনে হারের আতঙ্ক ঢুকেছে। গোটা বাংলায় পরিবর্তনের হওয়া বইছে।” উল্লেখ্য, ২০২১-এর উপনির্বাচনে ভবানীপুর থেকে ৫৮ হাজারেরও বেশি ভোটে জয়ী হয়েছিলেন মমতা। এবার সেই মার্জিন ধরে রাখাই তৃণমূলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।