ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে কি হামলা চালিয়েছে আমেরিকা? তেজস্ক্রিয় বিকিরণের আতঙ্কে কাঁপছে তেহরান!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ কি এবার পারমাণবিক বিষে ভরে উঠবে? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে সোমবার এমনই এক হাড়হিম করা আশঙ্কা উসকে দিল আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)। ইরানের দাবি, ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ বাহিনী তাদের পরমাণু শক্তি কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এর ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হারে তেজস্ক্রিয় বিকিরণের (Radioactive Radiation) আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে, বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এর প্রভাব ভারতের আকাশ-বাতাস পর্যন্ত পৌঁছে যেতে পারে।
IAEA প্রধান রাফায়েল গ্রোসির সতর্কবার্তা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি বর্তমানে হাতের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি বলেন, “আজকের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তেজস্ক্রিয় বিকিরণের সম্ভাবনাকে কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।” গ্রোসি পরামর্শ দিয়েছেন যে, ইরানের বড় এবং জনবহুল শহরগুলি অবিলম্বে খালি করে দেওয়া প্রয়োজন। না হলে এক বিশাল মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। যদিও তিনি এও জানিয়েছেন যে, এখনও পর্যন্ত কোনো পরমাণু কেন্দ্র সরাসরি ধ্বংস হওয়ার অকাট্য প্রমাণ মেলেনি, তবে ইরানের পরমাণু কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সংস্থার উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রয়টার্সের রিপোর্ট ও বিকিরণ আতঙ্ক রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক থাকলেও, যে কোনও মুহূর্তেই তা বদলে যেতে পারে। IAEA-র একটি বিশেষ টিম ইরানে পৌঁছে পরীক্ষা না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। গ্রোসির মতে, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই এই মহাপ্রলয় রোখা সম্ভব। আমেরিকা ও ইজরায়েলের এই প্রত্যাঘাতে ইরানে এপর্যন্ত ৩০০-র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
বিপদের মুখে ভারত ও মধ্যপ্রাচ্য যদি সত্যিই ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে কেবল ইরান নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস হয়ে যাবে। পরমাণু বিকিরণের ফলে পশ্চিম এশিয়ার আবহাওয়া বিষাক্ত হয়ে উঠবে এবং বায়ুপ্রবাহের মাধ্যমে সেই তেজস্ক্রিয় কণা ভারতের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পরিবেশবিদরা। বর্তমানে তেহরান সহ একাধিক বড় শহরে চলছে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি।