ভারতে বড়সড় অশান্তির ছক? ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে হাই অ্যালার্টে পশ্চিমবঙ্গ-সহ সব রাজ্য!

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন কি এবার ভারতের মাটিতেও ছড়াতে পারে? এমনই এক বিস্ফোরক আশঙ্কায় দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি করল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। ইরান ও ইজরায়েলের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আবহে ভারতের অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মন্ত্রকের তরফে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে একটি বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছে।

সভায় অশান্তি ও উস্কানির ভয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের অভ্যন্তরে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ধর্মীয় সভা, রাজনৈতিক জমায়েত বা মিছিল থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোনও ধরনের উস্কানিমূলক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বা বার্তা যাতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করতে না পারে, সেদিকে রাজ্য পুলিশকে কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

টার্গেটে বিদেশি দূতাবাস ও পর্যটকরা? গোয়েন্দা সূত্রের খবর, ভারতে অবস্থিত আমেরিকা, ইজরায়েল এবং ইরানের কনসুলেট বা দূতাবাস অফিসগুলোতে হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না কেন্দ্র। প্রতিটি দূতাবাসের সামনে সিসিটিভি নজরদারি এবং নিরাপত্তা কয়েক গুণ বাড়াতে বলা হয়েছে। এছাড়া হিমাচল বা কাশ্মীরের মতো পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যেখানে ইজরায়েলি বা পশ্চিমা পর্যটকদের ভিড় বেশি থাকে, সেখানে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে। পহেলগাম হামলার অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে বিদেশি পর্যটকদের হোটেলগুলোতেও বিশেষ পাহারার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

অগ্নিগর্ভ কাশ্মীর, উত্তাল লখনউ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই ভারতের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের শ্রীনগর, লালচক-সহ উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশ এখন ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলেছে সিআরপিএফ। ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, অল ইন্ডিয়া শিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড ভারতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালনের ডাক দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশের লখনউ ও অযোধ্যায় উত্তেজনা তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই সতর্কতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।