ভোটার তালিকায় খোদ বিজেপি নেতার নামেই ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাম্প! বিডিও অফিস ঘেরাও করে তুলকালাম বাঁকুড়ায়

ভোট যত এগিয়ে আসছে, ভোটার তালিকার অসংগতি নিয়ে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনীতি। এবার এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকার চূড়ান্ত তালিকা থেকে খোদ বিজেপি নেতার নাম বাদ যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিস। নিজের নামের পাশে ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাম্প দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন বিজেপির বাঁকুড়া ৪ নম্বর মণ্ডলের সহ-সভাপতি রাকেশ চট্টরাজ। প্রশাসনিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে অনুগামীদের নিয়ে বিডিও অফিসের সামনে ধরনায় বসেন তিনি।
পুরনো বাসিন্দার নাম বাদ কেন? বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের জগদল্লা গ্রামের বাসিন্দা রাকেশ চট্টরাজ। তাঁর দাবি, কয়েক পুরুষ ধরে তাঁরা এই গ্রামে বসবাস করছেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও তিনি সপরিবারে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রকাশিত এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকায় দেখা যাচ্ছে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সাধারণত কেউ মারা গেলে, পাকাপাকিভাবে অন্যত্র চলে গেলে কিংবা একাধিক বুথে নাম থাকলে ‘ডিলিটেড’ স্ট্যাম্প দেওয়া হয়। কিন্তু রাকেশবাবুর দাবি, তাঁর ক্ষেত্রে এর কোনোটিই প্রযোজ্য নয়। তবে কেন তালিকা থেকে তাঁকে ছেঁটে ফেলা হলো, তা নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
তৃণমূলের পাল্টা চাল এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী তরজা তুঙ্গে পৌঁছেছে। যেখানে বিজেপি সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের দিকে আঙুল তুলছে, সেখানে তৃণমূলের দাবি অন্য। তৃণমূলের বাঁকুড়া ১ নম্বর ব্লকের সভাপতি অংশুমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনিক আধিকারিকদের এতে কোনো হাত নেই। যা করার নির্বাচন কমিশনই করেছে।” তৃণমূলের বক্তব্য, নাম বাদ পড়ার দায় পুরোপুরি কমিশনের।
তীব্র উত্তেজনা বিডিও অফিসে সোমবার বিকেলে রাকেশ চট্টরাজ ও তাঁর অনুগামীরা বিডিও অফিসের সামনে বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই ভুলের সংশোধন করতে হবে এবং দোষী আধিকারিকদের শাস্তি দিতে হবে। বিডিও অফিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হলেও বিক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। উল্লেখ্য, এর আগে তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ থাকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন। এবার বিজেপি নেতার নাম বাদ যাওয়ায় ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জটিল রূপ ধারণ করল।