খলিস্তানি জট কাটিয়ে এবার ইউরেনিয়ামে হাত মেলালো ভারত-কানাডা, ২০৩০-এর টার্গেট ৫০ বিলিয়ন ডলার!

দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক তিক্ততা কাটিয়ে এক নতুন ভোরের ইঙ্গিত দিচ্ছে ভারত ও কানাডা সম্পর্ক। সোমবার নয়াদিল্লিতে কানাডার নতুন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। খলিস্তানি ইস্যুতে তলানিতে ঠেকে যাওয়া সম্পর্কের বরফ গলিয়ে এদিন দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে ঐতিহাসিক ইউরেনিয়াম চুক্তি। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘোষণা করেছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪.৫ লক্ষ কোটি টাকা।

ইউরেনিয়াম ও খনিজ খাতে বড় পদক্ষেপ ইজরায়েল সফর সেরে ফিরেই কর্মতৎপর মোদী। এদিন মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠকের পর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ মউ (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দীর্ঘমেয়াদী ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি। ভারতের ক্রমবর্ধমান পরমাণু শক্তির চাহিদা মেটাতে এই চুক্তি গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ বা ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস’ এবং পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি নিয়েও হাত মিলিয়েছে দুই দেশ।

বাণিজ্যের মেগা টার্গেট: ৫০ বিলিয়ন ডলার সাংবাদিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ভারতে স্বাগত জানাতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যকে ৫০ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়া।” দুই দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও অনিতা আনন্দের উপস্থিতিতে এই বাণিজ্য প্রসারের পথ প্রশস্ত করা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মহাকাশ গবেষণা এবং স্টার্টআপের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রগুলিতেও একে অপরকে সহযোগিতা করবে ভারত ও কানাডা।

সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে ‘কার্নি’ ফ্যাক্টর খলিস্তানি নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে জাস্টিন ট্রুডোর সময় ভারত-কানাডা সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছিল। বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বাণিজ্য চুক্তিও। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মার্ক কার্নির দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। কার্নির এই প্রথম ভারত সফরকে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কূটনীতিবিদরা। কানাডা আন্তর্জাতিক সৌর জোট (ISA) ও জৈব জ্বালানি জোটে যোগ দেওয়ার ঘোষণাও করেছে, যা পরিবেশ রক্ষায় দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে।