বিস্ফোরক পরিস্থিতি কাশ্মীরে! ৪৪ ধারা জারি, আগামী দু’দিন স্কুল ছুটি; বড় নাশকতার আশঙ্কা?

ইরানে মার্কিন ও ইজরায়েলি যৌথ হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনেইর মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই উত্তাল হয়ে উঠল কাশ্মীর উপত্যকা। রবিবারের পর সোমবার পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করায় উপত্যকার বিস্তীর্ণ অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে আগামী দু’দিন স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীনগরসহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় জারি হয়েছে কড়া বিধিনিষেধ।

কান্নায় ভেঙে পড়ল উপত্যকা, রাজপথে জনসমুদ্র শনিবার মধ্যরাতে খামেনেইর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই ভারতজুড়ে শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব পড়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। লাল চক থেকে শুরু করে সাইদা কাদল, বুদগাম, বান্দিপোরা এবং অনন্তনাগে হাজার হাজার মানুষ কালো পতাকা ও খামেনেইর ছবি হাতে রাস্তায় নেমে আসেন। বুক চাপড়ে মাতম ও শোকমিছিলে যোগ দেন মহিলা ও শিশুরাও। এক প্রতিবাদীর কথায়, “আমাদের প্রিয় নেতা শহিদ হয়েছেন, এই শোক সহ্য করার মতো নয়।”

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ: ব্ল্যাকআউটে কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সোমবার সকাল থেকেই শ্রীনগরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, এই আবেগপ্রবণ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কোনো গোষ্ঠী যাতে অশান্তি ছড়াতে না পারে, তাই উপত্যকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার এবং মঙ্গলবার সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সারাদেশে প্রতিবাদের ঢেউ কাশ্মীর ছাড়াও লাদাখ, উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও কর্ণাটকের শিয়া এলাকায় শোকের পরিবেশ। কর্ণাটকের চিক্কাবল্লাপুর জেলার আলিপুরা গ্রামে তিন দিনের শোক পালিত হচ্ছে। সেখানে খামেনেইর নামে থাকা হাসপাতাল ও মসজিদে বিশেষ প্রার্থনা সভা চলছে। দোকানপাটও স্বেচ্ছায় বন্ধ রেখেছেন স্থানীয়রা। লক্ষ্ণৌতেও বড় ইমামবাড়ার সামনে জমায়েত করে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন ধর্মপ্রাণ মানুষ।