তফশিলি ভোট ব্যাংকে নজর তৃণমূলের! ২০২৬-এর লক্ষ্যে অভিষেকের মেগা কর্মসূচি ‘তফশিলির সংলাপ

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে তফশিলি জাতি (SC) ও উপজাতি (ST) অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে নিজেদের আধিপত্য ফিরে পেতে কোমর বেঁধে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার নজরুল মঞ্চ থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক নয়া জনসংযোগ কর্মসূচি ‘তফশিলির সংলাপ’-এর সূচনা করলেন। আগামী ৫ মার্চ থেকে টানা দু’মাস ধরে রাজ্যের ৮৪টি সংরক্ষিত বিধানসভা কেন্দ্রে এই নিবিড় প্রচার চালানো হবে।
কর্মসূচির মূল লক্ষ্য: অভিষেক স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপির ‘বিভাজনের রাজনীতি’র মোকাবিলা করতে তৃণমূল প্রতিনিধিরা সরাসরি মানুষের দুয়ারে পৌঁছবেন। প্রচার গাড়িতে করে প্রতিটি বিধানসভার আনাচে-কানাচে গিয়ে ‘তফশিলির সংলাপ’ পুস্তিকা বিলি করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো:
-
রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের (বিশেষ করে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৭০০ টাকা) খতিয়ান তুলে ধরা।
-
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে দলিত ও আদিবাসীদের ওপর হওয়া নির্যাতনের (NCRB রিপোর্ট অনুযায়ী) কথা প্রচার করা।
বিজেপিকে কড়া আক্রমণ: অভিষেক এদিন বাবাসাহেব আম্বেদকরের কালারাম মন্দির আন্দোলনের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বিজেপিকে ‘দলিত বিরোধী’ বলে তকমা দেন। তাঁর অভিযোগ, “বিজেপি ২৪০ জন সাংসদ নিয়ে সংবিধান পাল্টানোর চক্রান্ত করছে। ওরা ক্ষমতায় এলে আম্বেদকরের দেওয়া অধিকার কেড়ে নেবে।” রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে রাম মন্দির উদ্বোধনে আমন্ত্রণ না জানানোকেও তিনি আদিবাসী সমাজের অপমান হিসেবে তুলে ধরেন।
উন্নয়ন বনাম বঞ্চনা: কেন্দ্রীয় বকেয়া নিয়ে মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে অভিষেক বলেন, “বাংলা থেকে গত সাত বছরে সাত লক্ষ কোটি টাকা কর তুলে নিয়ে গেছে কেন্দ্র, অথচ গত পাঁচ বছরে বাংলার মানুষের বাড়ির জন্য পাঁচ পয়সা দেয়নি।” তিনি কর্মীদের নির্দেশ দেন, আগামী ৬০ দিন খাওয়া-দাওয়া ও ঘুম বাদ দিয়ে মানুষের জন্য লড়াই করতে হবে। বিজেপির রথযাত্রাকে ‘বিনাশ যাত্রা’ ও ‘জমিদারদের বিলাসিতা’ বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।