রং বরষে’-র আড়ালে আসল খেলা! রেখার শরীরে আবির দিতেই অগ্নিশর্মা জয়া, মাঝপথে থামল শুটিং?

বলিউডের গ্ল্যামার আর আলোর রোশনাইয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকা এক চিরন্তন বিরহের নাম অমিতাভ-রেখা। আজ কয়েক দশক পার হয়ে গেলেও হোলির রং আসতেই ফিরে ফিরে আসে তাঁদের সেই বিতর্কিত প্রেমের গুঞ্জন। গসিপ ম্যাগাজিনের পাতায় তাঁদের সম্পর্ক যতটা রঙিন, বাস্তব জীবনে তা ছিল জয়া বচ্চনের ব্যক্তিত্ব আর অধিকারবোধের কঠিন দেওয়ালের সামনে এক অসহায় সমর্পণ।

সেই ঐতিহাসিক হোলি ও ‘সিলসিলা’র সেট: পরিচালক যশ চোপড়া যখন ‘সিলসিলা’ ছবির কাস্টিং করেছিলেন, তখনই তা বলিপাড়ায় কম্পন ধরিয়ে দিয়েছিল। কারণ, পর্দার সেই ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ছিল অমিতাভ-জয়া-রেখার বাস্তব জীবনেরই প্রতিফলন। ছবির আইকনিক গান ‘রং বরষে’-র শুটিং চলাকালীন ঘটেছিল সেই চাঞ্চল্যকর ঘটনা। চারিদিকে রঙের উৎসব, কিন্তু নেপথ্যে বইছিল উত্তেজনার চোরাস্রোত।

জয়ার নজরে ধরা পড়লেন দুজনে: একটি পুরনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুটিংয়ের বিরতিতে যখন আবির আর রঙে মেখে রয়েছেন রেখা, তখন তাঁকে এবং অমিতাভকে কিছুটা দূরে একান্তে কথা বলতে দেখে ফেলেন জয়া। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখার পর জয়া বচ্চনের শরীরী ভাষা বদলে গিয়েছিল। জয়া বরাবরই তাঁর সংসার আগলে রাখতে চেয়েছেন। ওই এক মুহূর্তই যেন সম্পর্কের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দিয়েছিল। জয়া স্থির করেন, পেশাদারিত্বের খাতিরে শুটিং শেষ করবেন, কিন্তু এই সমীকরণ আর বাড়তে দেবেন না।

অলিখিত নিষেধাজ্ঞা ও একাকীত্বের জয়গান: ‘সিলসিলা’র পর জয়া বচ্চন অমিতাভের ওপর এক অলিখিত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন— রেখার সঙ্গে আর কোনো কাজ নয়। ছবির প্রথম স্ক্রিনিংয়েও রেখার উপস্থিতি সইতে না পেরে জয়া গরহাজির ছিলেন বলে শোনা যায়। এরপর থেকেই রেখা হয়ে রইলেন এক রহস্যময়ী চিরকুমারী, আর অমিতাভ ফিরে গেলেন তাঁর পারিবারিক গণ্ডিতে। বচ্চন পরিবারের অন্দরে আজও ‘রেখা’ শব্দটি এক জমাট বাঁধা নিস্তব্ধতা। রঙের উৎসব হোলি এলেই সেই অধ্যায়টি বারবার মনে করিয়ে দেয়, কিছু প্রেম অপূর্ণ থাকার জন্যই অমর হয়ে যায়।