ভোটের মুখে ভাঙড়ের সমীকরণ ওলটপালট! শাসক শিবিরে নাম লিখিয়েই আইএসএফ-কে চ্যালেঞ্জ হজরতের

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে বড়সড় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে গেল। একুশের নির্বাচনে যে ভাঙড় তৃণমূলের হাতছাড়া হয়েছিল এবং আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানেই এবার ফাটল ধরাল ঘাসফুল শিবির। নারায়ণপুর অঞ্চলের দাপুটে আইএসএফ নেতা হজরথ মোল্লা তাঁর কয়েকশো অনুগামী নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিলেন। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক তথা ভাঙড়ের পর্যবেক্ষক সওকত মোল্লার উপস্থিতিতে এই যোগদান পর্ব সম্পন্ন হয়।
সওকত মোল্লার হুঙ্কার ও হজরতের যুক্তি: এদিন ঘটকপুকুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হজরথ মোল্লার হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে সওকত মোল্লা বলেন, “গত পাঁচ বছরে ভাঙড়ে কোনও উন্নয়ন হয়নি। মানুষ এখন দিদির উন্নয়ন দেখছে। তাই নওশাদকে ছেড়ে মমতার ছাতার তলায় চলে আসছেন কর্মীরা।” হজরথ মোল্লাও যোগদানের পর সুর চড়িয়ে জানান, এলাকার মানুষের স্বার্থেই তিনি উন্নয়নের জোয়ারে শামিল হয়েছেন এবং আগামী দিনে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবেন।
চাপের মুখে দলবদল? বিরোধীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছিল যে, ভয় দেখিয়ে বা চাপ দিয়ে আইএসএফ নেতাদের তৃণমূলে টানা হচ্ছে। এই প্রশ্নের উত্তরে সওকত মোল্লা সপাটে জানান, “তৃণমূলের এমন দিন আসেনি যে কাউকে চাপ দিয়ে দলে আনতে হবে। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসছে।” অন্যদিকে, আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, হজরথ মোল্লা অনেকদিন ধরেই দলবিরোধী কাজ করছিলেন এবং তাঁকে আগেই শোকজ করা হয়েছিল।
ভাঙড়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই দলবদল যে আসন্ন নির্বাচনে নওশাদ সিদ্দিকীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। অন্যদিকে, সওকত মোল্লার নেতৃত্বে ভাঙড় পুনর্দখলের লড়াইয়ে তৃণমূল এই জয়কে বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছে।