কলকাতার বুকে এক টুকরো শান্তিনিকেতন! ভারতীয় জাদুঘরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘দীক্ষা মঞ্জরী’র বসন্ত উৎসব

বসন্তের রঙে রঙিন তিলোত্তমা। আর সেই রঙের ছোঁয়ায় এবার এক অনন্য মাত্রা যোগ করল কলকাতার ভারতীয় জাদুঘর। রবিবাসরীয় সন্ধ্যায় বিশিষ্ট ওড়িশি নৃত্যশিল্পী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তাঁর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘দীক্ষা মঞ্জরী’র উদ্যোগে আয়োজিত হল এক বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব। শাস্ত্রীয় নৃত্যের ছন্দ আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরের মূর্চ্ছনায় এক মায়াবী সন্ধ্যার সাক্ষী থাকল শহরবাসী। সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানের আয়োজনে ছিল ভারতীয় জাদুঘর, প্রভা খৈতান ফাউন্ডেশন এবং দীক্ষা মঞ্জরী।

জাদুঘরে বসন্তের ছোঁয়া: দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতেই দোল উৎসবের আগে বসন্ত আবাহন চলত। তবে গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় জাদুঘরের ঐতিহাসিক চত্বরেই এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। এবারও তার অন্যথা হয়নি। রঘুনাথ দাস এবং দীক্ষা মঞ্জরীর প্রায় ৫০০-র বেশি ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মঞ্চে ওড়িশি নৃত্যের এক অপূর্ব কোলাজ তুলে ধরেন ডোনা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সন্দীপ ভুটোরিয়া।

সুর ও ছন্দের যুগলবন্দি: নৃত্যের পাশাপাশি ছিল মনমাতানো গানের আয়োজন। ‘দক্ষিণায়ন ইউকে’-র ডা. আনন্দ গুপ্তের পরিচালনায় শিল্পীরা জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত ও লোকগান পরিবেশন করেন। ডোনার ওড়িশি মুদ্রা আর রবীন্দ্রসঙ্গীতের লয় মিলেমিশে বসন্তের প্রকৃত চেতনাকে ফুটিয়ে তোলে। উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এবং সাধারণ দর্শক মণ্ডলী মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে এই অনুষ্ঠান উপভোগ করেন এবং শেষে শিল্পীদের দাঁড়িয়ে অভিবাদন (Standing Ovation) জানান।

ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাবনা: অনুষ্ঠান শেষে আবেগপ্রবণ ডোনা বলেন, “বসন্ত হল নবজন্ম এবং আশার প্রতীক। আমরা কেবল ঋতু বদল উদযাপন করছি না, বরং আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ভারতীয় জাদুঘরের মতো এক ঐতিহ্যবাহী স্থানে আমার ছাত্রছাত্রীদের এই পারফরম্যান্স আমাকে গর্বিত করেছে।” ২৫ বছর ধরে ওড়িশি নৃত্যকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়ার যে লড়াই ডোনা চালিয়ে যাচ্ছেন, এই বসন্ত উৎসব ছিল তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন।