বাংলার কোন জেলায় সবথেকে বেশি বেকার? ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের পরিসংখ্যানে উঠে এল শিউরে ওঠা তথ্য!

পশ্চিমবঙ্গে বেকারত্বের আসল চেহারাটা ঠিক কতটা ভয়াবহ, তা এবার সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ল। রাজ্য সরকারের নতুন ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সুবিধা পেতে নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হতেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত ২ মার্চ ২০২৬-এর আপডেট অনুযায়ী, রাজ্যে কর্মহীন যুবক-যুবতীদের সংখ্যা এতটাই বেশি যে মাত্র কয়েক দিনেই আবেদনের সংখ্যা ৬০ লক্ষ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই বিশাল সংখ্যার ভিড়ে দক্ষিণবঙ্গের একটি জেলা বেকারত্বের নিরিখে রাজ্যের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।

শীর্ষে কোন জেলা? সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আবেদনকারীর সংখ্যার নিরিখে তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা। এই জেলা থেকে প্রায় ৬ লক্ষ ৯০ হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। অর্থাৎ, বেকারত্বের দহন এই জেলাতেই সবথেকে বেশি। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মুর্শিদাবাদ, যেখান থেকে ৫ লক্ষ ৮০ হাজার যুবক-যুবতী সাহায্যের জন্য আবেদন করেছেন। উত্তর ২৪ পরগনা রয়েছে তৃতীয় স্থানে (৪ লক্ষ ৬০ হাজার আবেদন)।

শহর কলকাতার কী হাল? তালিকায় পিছিয়ে নেই কলকাতাও। খোদ তিলোত্তমা থেকে ১ লক্ষ ৫০ হাজারের বেশি বেকার যুবক-যুবতী এই প্রকল্পে নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া এবং হুগলি জেলা থেকেও কয়েক লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। মালদা, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়াতেও বেকারত্বের হার রীতিমতো উদ্বেগজনক।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: তুলনামূলকভাবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে আবেদনের সংখ্যা দক্ষিণবঙ্গের চেয়ে কিছুটা কম। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কালিম্পং এবং দার্জিলিং থেকে কয়েক হাজার আবেদন জমা পড়েছে। তবে ঝাড়গ্রামের মতো পিছিয়ে পড়া জেলা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় তরুণ-তরুণীরা সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন।

নবান্নের পরবর্তী পদক্ষেপ: ‘দুয়ারে সরকার’ শিবির এবং অনলাইন পোর্টাল— দুই মাধ্যমেই এই বিপুল পরিমাণ আবেদন জমা পড়েছে। নবান্ন সূত্রে খবর, বর্তমানে এই ৬০ লক্ষ আবেদনের স্ক্রুটিনি বা নথি যাচাইয়ের কাজ যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলেই ধাপে ধাপে যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিশাল বেকারত্বের পরিসংখ্যান রাজ্যের শাসক দলের কাছে যেমন বড় চ্যালেঞ্জ, তেমনই বিরোধীদের হাতে তুলে দিয়েছে নতুন হাতিয়ার।