বঙ্গ রাজনীতিতে ‘বাবরি’ ঝড়! রায়দিঘির মঞ্চ থেকে মমতাকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের!

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের ‘বাবরি মসজিদ’ নির্মাণের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের গলায়। রায়দিঘির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চ থেকে শাহ সরাসরি তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে। তাঁর দাবি, বাংলায় তুষ্টিকরণের রাজনীতির স্বার্থেই পরিকল্পিতভাবে হুমায়ুন কবীরকে দিয়ে এই কাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।

অমিত শাহের আক্রমণ ও ‘ষড়যন্ত্র’ তত্ত্ব: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন রায়দিঘির জনসভা থেকে সুর চড়িয়ে বলেন, “হুমায়ুন কবীর ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ।” তিনি অভিযোগ করেন, হুমায়ুন কবীরকে পরিকল্পনা করেই তৃণমূলের থেকে বাইরে বের করা হয়েছে যাতে বাংলায় পুনরায় বাবরি মসজিদ তৈরির মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করা যায়। শাহের প্রশ্ন, “আপনার বাংলায় কি আবার একটা বাবরি মসজিদ হওয়া উচিত?” তাঁর মতে, রাজ্যে ধর্মীয় মেরুকরণ ও ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতি করতেই এই সমীকরণ তৈরি করা হয়েছে।

বিতর্কের সূত্রপাত: ঘটনার প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। ৬ ডিসেম্বর, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের দিনটিতেই ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণ করবেন। সেই সময় তিনি তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছিল, দল এই ধরনের বক্তব্য সমর্থন করে না এবং এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।

হুমায়ুন কবীরের পাল্টা কৌশল: পরবর্তীতে পরিস্থিতি জটিল হলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব হুমায়ুন কবীরকে সতর্ক করে এবং শোকজও করা হয়। কিন্তু কবীর নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। গত ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভার দিনই হুমায়ুন কবীরকে স্থানীয়ভাবে সাসপেন্ড করা হয়। এরপরই তিনি নিজের নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে তাঁর লক্ষ্য অন্তত ৯০টি আসন জয় করা। কবীরের স্পষ্ট দাবি, সরকার গড়ার চাবিকাঠি তাঁর হাতে থাকলে তবেই তিনি বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিশ্চিত করতে পারবেন।

বিজেপির নিশানায় তৃণমূল: তৃণমূলের অভিযোগ ছিল যে, হুমায়ুন কবীর আসলে বিজেপির ‘বি-টিম’ হিসেবে কাজ করছেন যাতে মুসলিম ভোট ভাগ করে বিজেপি সুবিধা পায়। কিন্তু অমিত শাহ আজ সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে উল্টে মমতা সরকারকেই কাঠগড়ায় তুললেন। শাহের মতে, বাংলায় বাবরি মসজিদ তৈরির এই ‘ষড়যন্ত্র’ আসলে তৃণমূলের দীর্ঘমেয়াদি তুষ্টিকরণ রাজনীতিরই অংশ। নির্বাচনের আগে এই ‘বাবরি’ ইস্যু যে বাংলার মসনদ দখলের লড়াইয়ে বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে, তা শাহের আজকের ভাষণেই স্পষ্ট।