পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আগুন! মাঝরাতে সিসিএস বৈঠক মোদির, দুবাই ও ইজরায়েলের রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে জরুরি কথা প্রধানমন্ত্রীর!

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান ইরান-ইজরায়েল সামরিক উত্তজনা নিয়ে চরম সতর্ক ভারত। রবিবার রাজস্থান ও গুজরাত সফর সেরে দিল্লি ফিরেই তড়িঘড়ি নিরাপত্তা সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিএস) বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মাঝরাতের এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে পশ্চিম এশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির বিশদ পর্যালোচনা করা হয়। বৈঠকে মোদি স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে আটকে পড়া ভারতীয়দের দ্রুত উদ্ধার ও সহায়তা করার জন্য সবকটি দফতরকে যুদ্ধের প্রস্তুতিতে কাজ করতে হবে।

দুবাইয়ে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। মোদি জানান, এই কঠিন সময়ে ভারত সংহতির সঙ্গে আমিরশাহীর পাশে রয়েছে। বিশেষ করে দুবাইয়ে বসবাসকারী ভারতীয়দের সুরক্ষার জন্য তিনি শেখ নাহিয়ানকে ধন্যবাদও জানান। একইসঙ্গে তিনি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন। মোদি নেতানিয়াহুকে অসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি অবিলম্বে হানাহানি বন্ধ করে সংলাপের পথে ফেরার আহ্বান জানান।

বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ার আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার ভারতীয় পর্যটক ও শিক্ষার্থী। দুবাই, দোহা-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন সাধারণ মানুষ। ইরানে প্রায় ১০ হাজার এবং ইজরায়েলে ৪০ হাজারের বেশি ভারতীয় বসবাস করছেন। সব মিলিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় ৯ লক্ষ ভারতীয়র নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নয়াদিল্লি। সিসিএস বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী উপস্থিত ছিলেন। ভারতের স্পষ্ট অবস্থান—যেকোনো মূল্যে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যথায় বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বড়সড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।