খামেনেইয়ের রহস্যময় ‘ডান হাত’! ৪৫ বছর কেন লুকিয়ে রাখতেন অঙ্গটি? জানলে চমকে উঠবেন

আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ অভিযানে সদ্য নিহত হয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই। কিন্তু গত ৪৫ বছর ধরে তাঁর ব্যক্তিত্বকে ঘিরে ছিল এক গভীর রহস্য। আপনি কি কখনও লক্ষ্য করেছেন, জনসমক্ষে বা বিশ্বনেতাদের সামনে খামেনেই কেন সবসময় কেবল তাঁর বাঁ হাত নাড়তেন? কেন তাঁর ডান হাতটি সবসময় ঢাকা থাকত আলখাল্লা বা জোব্বার নিচে?

এর নেপথ্যে রয়েছে ১৯৮১ সালের এক রক্তঝরা দুপুরের অভিশপ্ত ইতিহাস।

২৭ জুন, ১৯৮১: সেই মৃত্যুফাঁদ

সেদিন তেহরানের আবুজার মসজিদে ভাষণ দিচ্ছিলেন খামেনেই। হঠাৎই মঞ্চে উঠে এক সাংবাদিক তাঁর সামনের টেবিলে একটি টেপ রেকর্ডার রেখে দেন। কেউ ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি, সেই যন্ত্রের ভেতরেই লুকিয়ে আছে কালান্তক বিস্ফোরক। কিছুক্ষণ পরেই বিকট শব্দে ফেটে যায় রেকর্ডারটি। ধোঁয়া সরলে দেখা যায়, ভেতরে পড়ে আছে একটি চিরকুট— “ইসলামিক রিপাবলিকের জন্য ফোরকান গ্রুপের উপহার।”

অকেজো ডান হাত ও পক্ষাঘাত

সেই ভয়াবহ বিস্ফোরণে খামেনেইর ডান হাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকরা দীর্ঘ চেষ্টা করেও তাঁর হাতের স্নায়ু সচল করতে পারেননি। চিরতরে পক্ষাঘাতে অকেজো হয়ে যায় তাঁর ডান হাতটি। সেই থেকে গত ৪৫ বছর ধরে জনসমক্ষে নিজের ডান হাতটি বের করেননি তিনি। সবসময় তা ঢাকা থাকত কালো বা ছাই রঙের জোব্বায়।

বাঁ হাতের জয়গান

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা দমাতে পারেনি এই তেজস্বী নেতাকে। তিনি ঘনিষ্ঠ মহলে বলতেন, “যতক্ষণ আমার মস্তিষ্ক সচল আর কথা বলার ক্ষমতা আছে, ততক্ষণ ডান হাতের দরকার নেই।”

  • অদম্য জেদ: এরপর থেকেই তিনি বাঁ হাতে সব কাজ করা শুরু করেন।

  • নতুন অভ্যাস: সরকারি নথিতে সই থেকে শুরু করে কোরান ছুঁয়ে শপথ—সবই তিনি করতেন বাঁ হাতে। এমনকি বাঁ হাতে লেখালিখিও রপ্ত করে ফেলেছিলেন তিনি।

২০২৬-এর ভয়াবহ হামলায় তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত, এই ‘নিথর’ ডান হাতটি ছিল তাঁর সংগ্রামের এক নীরব সাক্ষী। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি প্রমাণ করে গিয়েছেন যে, শারীরিক অক্ষমতা নয়, মানুষের ইচ্ছাশক্তিই আসল শক্তি।