ইরানি হামলায় ৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু, স্বীকারোক্তি ট্রাম্পের! এবার কি তবে শুরু হচ্ছে ‘নরকের পথ’?

অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিধ্বংসী প্রত্যাঘাতে তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর খবর সরকারিভাবে স্বীকার করে নিল আমেরিকা। সোমবার সকালেই এই দুঃসংবাদ জানিয়ে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “মৃত্যুমিছিল এখানেই শেষ নয়, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”

কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে বিপর্যয়

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই-এর মৃত্যুর পর ইরান যে ‘প্রতিশোধের’ শপথ নিয়েছিল, তার আঁচ এবার সরাসরি লাগল মার্কিন বাহিনীর গায়ে।

  • সেনা মৃত্যু: কুয়েতে মোতায়েন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ৩ সৈনিক প্রাণ হারিয়েছেন। জখম হয়েছেন আরও অনেকে।

  • যুদ্ধবিমান ধ্বংস: সোমবার সকালে কুয়েতেই ভেঙে পড়েছে আমেরিকার অত্যাধুনিক F-15E জেট। দাবি করা হচ্ছে, বিমানটিকে গুলি করে নামানো হয়েছে।

  • দূতাবাসে হামলা: কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস চত্বর থেকেও কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখা গেছে। ইরানের মিসাইল আছড়ে পড়ায় সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রণতরী বনাম ব্যালাস্টিক মিসাইল

রবিবার গভীর রাতে ওমান উপসাগরে উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছায়। মার্কিন রণতরী USS আব্রাহাম লিঙ্কন লক্ষ্য করে ইরান ৪টি ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। যদিও পেন্টাগনের দাবি, তাদের আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কারণে রণতরীটি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। পাল্টা প্রত্যাঘাতে ওমান উপসাগরের কাছেই ইরানের একটি জাহাজ ধ্বংস করে দিয়েছে মার্কিন নৌসেনা।

‘নরকের রাস্তা’ দেখানোর হুঙ্কার

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সাফ কথা, “শত্রুদের পালানোর কোনো পথ নেই।” বাহরিন, দুবাই, সৌদি আরব এবং কাতারের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও দফায় দফায় ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে তেহরান। গোটা মধ্যপ্রাচ্য এখন কার্যত এক অগ্নিকুণ্ড।

শান্তির বার্তা মোদীর, অনড় ট্রাম্প

যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ভারত। রবিবার গভীর রাতে ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ফোন করে যুদ্ধ বন্ধের আরজি জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মার্কিন সেনার রক্তের দাম দিতে হবে ইরানকে। এই লড়াই এখনই থামার কোনো লক্ষণ নেই।

দোহা থেকে দুবাই—বিস্ফোরণের শব্দে কাঁপছে মধ্যপ্রাচ্য। সারা বিশ্বের নজর এখন ওয়াশিংটন আর তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।