রক্তাক্ত পাকিস্তান! ইরানপন্থী বিক্ষোভে করাচি ও গিলগিটে মৃত ১৭; মার্কিন দূতাবাসে জারি চূড়ান্ত সতর্কতা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর মৃত্যুর প্রতিবাদে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে পাকিস্তান। ইরানপন্থী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে করাচি এবং গিলগিট-বালটিস্তানে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবথেকে ভয়াবহ পরিস্থিতি করাচিতে, যেখানে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে তাণ্ডব শুরু করলে পুলিশের গুলিতে ১০ জন প্রাণ হারান। গিলগিট-বালটিস্তানেও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ৭ জন নিহত হয়েছেন।

করাচির মার্কিন কনস্যুলেট ভবনে আগুন ধরানোর চেষ্টা এবং ভাঙচুরের জেরে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালাতে বাধ্য হন বলে খবর। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে পাকিস্তানে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে সে দেশের দূতাবাস। সাময়িকভাবে পাকিস্তানিদের ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করার ঘোষণাও করা হয়েছে। শুধু করাচি নয়, লাহোরেও হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমেছেন। এমনকি পাক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভিকেও বিক্ষোভকারীদের ঘেরাওয়ের মুখে পড়তে হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইর মৃত্যুর পর থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করেছে, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল দুবাই, সৌদি আরব এবং বাহারিনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি। সংঘাতের জেরে এয়ার ইন্ডিয়া-সহ একাধিক বিশ্বখ্যাত বিমান সংস্থা তাদের উড়ান বাতিল করেছে। ভারতের কাশ্মীর, লেহ এবং লখনউতেও শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষ আমেরিকা-বিরোধী মিছিলে সামিল হয়েছেন। বর্তমানে গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।