“৬৩ লক্ষ নাম বাতিল, ৬১ লক্ষ ‘ঝুলে’!”-ভোটার তালিকায় নেই এই হেভিওয়েটদের নাম?

দীর্ঘ ৪ মাসের টানাপোড়েন শেষে প্রকাশিত হলো বাংলার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা (Final Voter List)। কিন্তু তালিকা সামনে আসতেই স্বস্তির বদলে রাজ্যজুড়ে ছড়িয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও বিস্ময়। একদিকে যেমন প্রায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ভোটারের নাম স্থায়ীভাবে বাতিল বা ‘ডিলিটেড’ করা হয়েছে, তেমনই প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটারের নাম রাখা হয়েছে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা বিচারাধীন তালিকায়।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ‘অমীমাংসিত’ তালিকায় নাম রয়েছে খোদ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার রিচা ঘোষ থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক প্রভাবশালী মন্ত্রী ও বিধায়কের!

তৃণমূলের কোন হেভিওয়েটরা ‘বিচারাধীন’?

খোদ তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিস্ফোরক তালিকায় জানিয়েছেন কাদের নাম এই তালিকায় ঠাঁই পেয়েছে। সেই তালিকায় রয়েছেন:

  • মন্ত্রী ও বিধায়ক: ডা: শশী পাঁজা, গোলাম রব্বানি, রফিকুল রহমান (আমডাঙা), তোরাফ হোসেন (কুমারগঞ্জ), জাকির হোসেন (জঙ্গিপুর), বাইরন বিশ্বাস (সাগরদিঘি), আবদুর রাজ্জাক (জলঙ্গী)।

  • প্রসাশনিক ও অন্যান্য: সন্দেশখালি-১ ব্লকের বিডিও সায়ন্তন সেন, ময়নাগুড়ির বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু এবং বীরভূম জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ।

  • এমনকি জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমানের পরিবারের সাতজন সদস্যের নামও রয়েছে এই অমীমাংসিত তালিকায়।

নথি দিয়েও মিলল না সুরাহা!

সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো, এই ব্যক্তিদের অনেকেই প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দিয়েছিলেন। প্রাক্তন মন্ত্রী জাকির হোসেন শুনানিতে নিজের পাসপোর্ট, সরকারি বন্দুকের লাইসেন্স এবং বিধায়ক পরিচয়পত্র জমা দিলেও তাঁর নাম চূড়ান্ত তালিকায় আসেনি। একইভাবে ৩৬ বছর চাকরি করা পেনশনভোগী বিধায়ক তোরাফ হোসেনের দাবি, বাবার নামের সামান্য উচ্চারণের ভুলের জন্য সব নথি দেওয়ার পরেও তাঁর নাম কেন ‘বিচারাধীন’ রাখা হলো, তা বোধগম্য নয়।

এক নজরে পরিসংখ্যানের খেলা:

  • মোট খসড়া ভোটার: ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন।

  • চূড়ান্ত তালিকায় ঠাঁই: ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪ জন।

  • মোট বাতিল (Deleted): ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জন।

  • বিচারাধীন (Adjudication): প্রায় ৬১ লক্ষ ভোটার।

এই বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম ‘বিচারাধীন’ থাকায় প্রশ্ন উঠছে নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে। এই তালিকায় নাম থাকা ভোটাররা আদৌ ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই ভোটার তালিকা বিপর্যয় বাংলার রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।