দুবাই-আবুধাবিতে মিসাইল বৃষ্টি! পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইউএই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জরুরি বৈঠক মোদীর

মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুকে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তেহরান। রবিবার আমিরাতের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান, যার লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজধানী আবুধাবি এবং বাণিজ্যিক শহর দুবাই। এই ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমিরাতের রাষ্ট্রপতি শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ কথা বলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই কাপুরুষোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আমিরাতের পাশে থাকার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স (X)-এ মোদী লিখেছেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে এই উত্তেজনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ভারত শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।” হামলায় ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত। উদ্বেগের বিষয় হলো, আহতদের মধ্যে একজন ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ভারত সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত ভারতীয়ের পরিবারকে সবরকম সাহায্য দেওয়া হচ্ছে। হামলার জেরে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নিরাপত্তার খাতিরে বিশ্বের উচ্চতম ভবন ‘বুরজ খলিফা’ খালি করে দেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গিয়েছে, যা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী আমিরাতে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ ভারতীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সে দেশের নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। ইজরায়েল ও আমেরিকার যৌথ অভিযানে খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান যেভাবে আরবের বিভিন্ন দেশে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধের কিনারে দাঁড়িয়ে। আমিরাত প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এই হামলাকে ‘বিপজ্জনক’ বলে আখ্যা দিয়ে দেশ রক্ষার শপথ নিয়েছে। এখন দেখার, মোদীর এই কূটনৈতিক তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক চাপ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কতটা কার্যকর হয়।