একই তেল বারবার গরম করে রান্না করছেন? সাবধান! শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসার ও ফ্যাটি লিভার

ভারতীয় রান্নাঘর মানেই সর্ষে, বাদাম কিংবা সূর্যমুখী তেলের ঝাঁজালো টেম্পারিং। এই তেলগুলো ছাড়া আমাদের রসনা তৃপ্তি অসম্পূর্ণ। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার প্রতিদিনের রান্নার এই উপকরণটিই আপনার লিভারের বারোটা বাজাচ্ছে? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ভোজ্য তেলের অনুপযুক্ত ব্যবহার এবং রান্নার ভুল পদ্ধতি সরাসরি লিভারের মারাত্মক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সিড অয়েল বা বীজ তেল আসলে কী?
উদ্ভিদের বীজ থেকে যে তেল নিষ্কাশন করা হয়, তাকেই সিড অয়েল বলা হয়। সর্ষে, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম কিংবা সয়াবিন তেল এর অন্তর্ভুক্ত। এই তেলগুলো ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড সমৃদ্ধ। শরীর সুস্থ রাখতে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬-এর ভারসাম্য প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের ডায়েটে ওমেগা-৩-এর তুলনায় ওমেগা-৬-এর পরিমাণ বেড়ে গেলেই বিপদ। অতিরিক্ত রিফাইনড তেল বা ভাজা খাবার লিভারের কোষে চর্বি জমিয়ে দেয়, যার ফলে হু হু করে বাড়ে ‘ফ্যাটি লিভার’-এর ঝুঁকি।

বিষাক্ত হয়ে উঠছে পুনরায় গরম করা তেল:
অনেকেই সাশ্রয় করতে কড়াইয়ের বেঁচে যাওয়া তেল বারবার গরম করে রান্না করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সবথেকে বিপজ্জনক অভ্যাস। উচ্চ তাপমাত্রায় বারবার তেল গরম করলে তাতে অ্যালডিহাইড এবং জারিত চর্বির মতো বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয়। লিভারের কাজ হলো শরীরকে বিষমুক্ত করা, কিন্তু এই বিষাক্ত উপাদানগুলো সরাসরি লিভারের গঠন নষ্ট করে দেয়। রাস্তার ধারের ভাজা খাবারেও একই তেল দিনের পর দিন ব্যবহার করা হয়, যা কেবল লিভারের প্রদাহ নয়, বরং শরীরে ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বীজ বপন করে। এমনকি দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে স্নায়ুতন্ত্রের রোগের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।

বাঁচার উপায় কী?
এর মানে এই নয় যে আপনি তেল খাওয়া ছেড়ে দেবেন। লিভার সুরক্ষিত রাখতে ‘কোল্ড প্রেসড’ বা ঘানির তেল ব্যবহার করার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। তবে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো তেলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং একই তেল পুনরায় গরম করা বন্ধ করা। বাইরের ভাজা খাবার এড়িয়ে চলা এবং বাড়িতে রান্না করার সময় তেলের রাসায়নিক গঠন যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই হলো সুস্থ লিভারের চাবিকাঠি।