বিয়ের পিঁড়ি ছেড়ে কাশীতে সন্ন্যাস নিতে ছুটলেন বর! কনের বাড়ির লোকেদের হাতজোড় বিনতি, তারপর যা হলো…

বিয়ের সাজগোজ সেরে মণ্ডপে হাজির বর। কিন্তু লগ্ন শুরুর আগেই ঘটল বিপত্তি! হঠাৎই পাত্র ঘোষণা করলেন, তিনি আর বিয়ে করবেন না, বরং সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হতে বারাণসী বা কাশী চলে যাবেন। শুধু বলা নয়, রাজকীয় পোশাক ছেড়ে অতি সাধারণ বেশভূষা পরে হাতে লাঠি, ছাতা, আর কাঁধে চাল-নারকেলের ঝোলা নিয়ে তিনি রওনা দিলেন অজানার পথে। বরের এমন মতিগতি দেখে মাথায় হাত কনের বাবার! হবু জামাইয়ের পথ আটকে তিনি কাকুতি-মিনতি শুরু করলেন যাতে তিনি মত বদলে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

শুনতে সিনেমার চিত্রনাট্য মনে হলেও, এটি আসলে দক্ষিণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর ব্রাহ্মণ পরিবারগুলোর এক প্রাচীন ও মজাদার বিয়ের রীতি। একে বলা হয় ‘কাশী যাত্রা’ প্রথা। বর্তমানে এটি পুরোপুরি বিনোদনের অঙ্গ হিসেবে পালন করা হয়। প্রথা অনুযায়ী, বর ছদ্মবেশে সন্ন্যাসী হওয়ার ভান করে মণ্ডপ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার অভিনয় করেন। তখন কনের বাবা ও ভাইয়েরা এসে তাঁকে বোঝান যে, সন্ন্যাস জীবনের চেয়ে সাংসারিক জীবন অনেক বেশি সুখের। তাঁরা বরের পথ আটকে তাঁকে বুঝিয়ে-সুজিয়ে আবার বিয়ের আসরে ফিরিয়ে আনেন।

এই প্রথাটি আসলে ব্রহ্মচর্য থেকে গার্হস্থ্য জীবনে প্রবেশের এক প্রতীকী উদযাপন। এককালে হয়তো এর গম্ভীর তাৎপর্য ছিল, কিন্তু আজ এটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নির্মল আনন্দ আর হাসির খোরাক জোগায়। উত্তর ভারতের অনেক জায়গায় যখন বরের ঘোড়ায় চড়ে আসা নিয়ে মাতামাতি হয়, তখন দক্ষিণ ভারতের এই ‘কাশী যাত্রা’ আমাদের দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন তুলে ধরে। হাতে বাঁশের পাখা আর ছাতা নিয়ে বরের সেই ছদ্ম-সন্ন্যাসী রূপ দেখতে ভিড় জমান আমন্ত্রিতরা।