ভবানীপুরে প্রায় ৪৭ হাজার নাম বাদ, মমতার কাছে কতটা চ্যালেঞ্জের বিষয়?

রাজ্য রাজনীতির হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র বললেই সবার আগে মনে আসে ভবানীপুরের নাম। যে কেন্দ্র থেকে জিতে নবান্নে বসেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেখানেই এবার ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (SIR) পর বাদ পড়ল ৪৭,১১২ জন ভোটারের নাম। আর এই তথ্য সামনে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা।
বিজেপির দাবি: ‘মমতার খেলা শেষ’
বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ যাওয়ায় ভবানীপুরে তৃণমূলের ভিত নড়ে গিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের মতে, এবার আর দিদির রক্ষা নেই। যদিও বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ সরাসরি নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মন্তব্য না করলেও সাফ জানিয়েছেন, “মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতিতে বিরক্ত, ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রাম—সবখানেই এবার পদ্ম ফুটবে।”
তৃণমূলের পাল্টা: ‘জয় নিশ্চিত’
পাল্টা দিতে ছাড়েনি ঘাসফুল শিবিরও। তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদার এত নাম বাদ যাওয়ার তত্ত্বকে সরাসরি মানতে চাননি। তবে তাঁর আত্মবিশ্বাসী দাবি, “যতই নাম বাদ দেওয়া হোক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে বিপুল ভোটেই জিতবেন।” দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এই নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে।
কী বলছে ভবানীপুরের ভোটের অঙ্ক?
যদি আবেগকে সরিয়ে রেখে আমরা সহজ পাটিগণিতের দিকে তাকাই, তবে চিত্রটা কিছুটা অন্যরকম:
-
২০১১ (উপনির্বাচন): মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জিতেছিলেন প্রায় ৭৩,০০০ ভোটে।
-
২০১৬: জয়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ৬৫,০০০ ভোট।
-
২০২১: নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের পর ভবানীপুরে ফিরে এসে মমতা রেকর্ড ৮৫,০০০-এর বেশি ভোটে জয়লাভ করেন। শতাংশের বিচারে যা ছিল ৭১.৯৬%।
বিশেষজ্ঞদের মত: ২০২১ সালের ভোটের ব্যবধান (৮৫,০০০+) যদি মাথায় রাখা যায়, তবে ৪৭,০০০ নাম বাদ যাওয়ার পরেও পাটিগণিতের হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। অর্থাৎ, এই ৪৭ হাজার ভোটারের সবাই যদি তৃণমূল বিরোধীও হন, তবুও ব্যবধান ঘোচানো বিজেপির পক্ষে বেশ কঠিন চ্যালেঞ্জ।
চ্যালেঞ্জ বনাম সম্ভাবনা
বিজেপি যখন সিঙ্গুর থেকে ভবানীপুর—সর্বত্র জয়ের স্বপ্ন দেখছে, তখন তৃণমূল ভরসা রাখছে তাদের গত এক দশকের ট্র্যাক রেকর্ডের ওপর। নির্বাচন কমিশনের এই SIR প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া কি সত্যিই কোনো রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দেবে? নাকি ভবানীপুর তার ঘরের মেয়েকেই দু-হাত ভরে আশীর্বাদ করবে? উত্তর দেবে সময়।