মুরগির পরনে ডায়াপার! প্রিয় ‘স্যাটারডে’-কে নিয়েই কলেজে যান এই অধ্যাপিকা, অবাক করা কাণ্ড

পোষ্য বলতে সাধারণত কুকুর বা বিড়ালের কথাই আমাদের মাথায় আসে। কিন্তু কানাডার নর্দার্ন ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক সোনিয়া কং-এর ক্ষেত্রে গল্পটা একেবারেই আলাদা। তিনি যেখানেই যান, সঙ্গে থাকে তাঁর প্রিয় পোষ্য মুরগি—যার নাম ‘স্যাটারডে’ বা শনিবার। কেন এমন নাম? সোনিয়া জানান, একটি খামার থেকে শনিবারের দিনেই তিনি এই মুরগিটিকে দত্তক নিয়েছিলেন, তাই এই নামকরণ।

তবে জনসমক্ষে মুরগি নিয়ে ঘোরার বিড়ম্বনাও কম নয়। মুরগি তো আর জায়গা-কাল বুঝে মলত্যাগ করে না! তাই রাস্তাঘাট বা কর্মক্ষেত্রে যাতে অপ্রস্তুত হতে না হয়, সেজন্য সোনিয়া তাঁর আদরের স্যাটারডেকে পরিয়ে দেন বিশেষ ধরনের ‘বার্ড ডায়াপার’। রঙিন ডায়াপার পরা মুরগি নিয়ে অধ্যাপিকাকে ঘুরতে দেখে অনেকেই অবাক হন, কিন্তু সোনিয়ার কাছে স্যাটারডে কেবল একটি পাখি নয়, তাঁর আবেগ ও অনুভূতির পরম সঙ্গী। সোনিয়ার দাবি, তিনি যখন মন খারাপ করে কাঁদেন, স্যাটারডে তখন চুপচাপ তাঁর সামনে এসে বসে থাকে এবং করুণ চোখে তাকিয়ে থাকে, যেন তাঁর কষ্টটা ভাগ করে নিতে চায়।

পেশায় মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক সোনিয়া বর্তমানে একটি বিশেষ গবেষণাও চালাচ্ছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হলো—মানুষের সঙ্গে তাঁর পোষ্য প্রাণীর সম্পর্কের গভীরতা এবং কীভাবে একটি পোষ্য মানুষের জীবনকে সুন্দর ও মানসিক চাপমুক্ত করতে সাহায্য করে। সোনিয়া ও স্যাটারডের এই নিবিড় বন্ধুত্বের খবর ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’-এ প্রকাশিত হওয়ার পর বিশ্বজুড়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। পোষ্য যে কেবল আভিজাত্যের প্রতীক নয়, বরং নিঃস্বার্থ ভালোবাসার আধার হতে পারে, তা আবারও প্রমাণ করলেন এই অধ্যাপিকা।