মার্কিন রণতরী ‘আব্রাহাম লিঙ্কন’ কি ধ্বংসের মুখে? ইরানের মিসাইল হামলার দাবি উড়িয়ে ছবি প্রকাশ করল পেন্টাগন

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্র এবার আকাশ ছাড়িয়ে সমুদ্রের গভীরে। শনিবার থেকেই ইরানের ওপর আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) দাবি করেছে, তারা আমেরিকার বিশালাকার পরমাণু শক্তিচালিত রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে চারটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে। তবে আমেরিকার প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

পেন্টাগনের পালটা প্রমাণ: ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড সোশ্যাল মিডিয়ায় রণতরীর টাটকা ছবি পোস্ট করে জানিয়েছে, আব্রাহাম লিঙ্কনের কোনো ক্ষতিই হয়নি। ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলো রণতরীর ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি। আমেরিকা সাফ জানিয়েছে, লিঙ্কন থেকে এখনও স্বাভাবিকভাবেই যুদ্ধবিমান ওঠা-নামা করছে। উলটে আমেরিকার হামলায় ওমান উপসাগরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ ‘জামারান-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজটি ডুবতে শুরু করেছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতিমধ্যে আমেরিকার ৩ জন সেনা আধিকারিক নিহত এবং ৫ জন আহত হয়েছেন। পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করতে এবং সন্ত্রাসবাদী আগ্রাসন রুখতে এই অভিযান চলবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরান যদি এখনই অস্ত্র সমর্পণ না করে, তবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

কেন এই সংঘাত? গত বছরের জুন মাস থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইজরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গে বিরোধ চরমে ওঠে। বহুবার আলোচনার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান সূত্র মেলেনি। সেই প্রেক্ষাপটেই শনিবার সকালে তেহরানে খামেনেইয়ের দপ্তরের কাছে ইজরায়েল ও আমেরিকা যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বর্তমানে ওমান উপসাগর থেকে তেহরান— সর্বত্রই বারুদের গন্ধ।