তেহরানে আকাশপথে মৃত্যুপুরী! খামেনেই নিধনের পর ইরানের মসনদে নতুন মুখ, কে এই আয়াতুল্লাহ আরাফি?

দীর্ঘ ৩৭ বছরের শাসনের নাটকীয় ও রক্তক্ষয়ী অবসান। তেহরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের বিধ্বংসী যৌথ বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই। ৮৬ বছর বয়সী এই নেতার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম ডামাডোল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সংবিধানের ১১১ নং অনুচ্ছেদ সক্রিয় করে তিন সদস্যের একটি জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এই পরিষদের প্রধান ধর্মীয় মুখ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন ৬৭ বছর বয়সী প্রবীণ ধর্মতাত্ত্বিক আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি।
হামলার লক্ষ্যবস্তু ও আইআরজিসি-তে রদবদল: শনিবারের এই হামলায় কেবল খামেনেই নন, ইরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর ওপরও বড় আঘাত এসেছে। হামলায় নিহত হয়েছেন আইআরজিসি প্রধান জেনারেল মহম্মদ পাকপোর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসেরজাদেহ। এই শূন্যস্থান পূরণে তড়িঘড়ি আহমদ ভাহিদিকে নতুন আইআরজিসি প্রধান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে।
কারা চালাবেন দেশ? স্থায়ী উত্তরসূরি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিন সদস্যের একটি কাউন্সিল ইরান পরিচালনা করবে। এই কাউন্সিলে রয়েছেন:
-
আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফি: প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও অন্তর্বর্তীকালীন ধর্মীয় প্রধান।
-
মাসুদ পেজেশকিয়ান: ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট।
-
গোলাম-হোসেন মোহসেনি-এজেই: ইরানের প্রধান বিচারপতি।
বিশ্বজুড়ে প্রতিক্রিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার’ বলে অভিহিত করেছেন। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি খামেনেইকে ‘ইতিহাসের অন্যতম নিকৃষ্ট ব্যক্তি’ হিসেবে ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, এটি কেবল আমেরিকার জয় নয়, খামেনেইয়ের হাতে নিপীড়িত হওয়া বিশ্বের অগণিত মানুষের জয়। অন্যদিকে, ইরান শুরুতে এই খবর অস্বীকার করলেও রবিবার সকালে সরকারিভাবে খামেনেইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে বহিরাগত আক্রমণ এবং অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের শূন্যতা—এই দুই সংকটে দাঁড়িয়ে ইরান এক গভীর অনিশ্চয়তার মুখে।