খামেনেই হত্যাকাণ্ডে ফুঁসছে ইরান: ইজরায়েল-আমেরিকার বিনাশ কি আসন্ন?

পশ্চিম এশিয়ার আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের মৃত্যুতে বিশ্বরাজনীতিতে যে কম্পন শুরু হয়েছে, তা এক প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শনিবার আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, এই রক্ত বৃথা যাবে না। তেহরানের হুঙ্কার— ‘সুদে-আসলে এই হত্যাকাণ্ডের মাশুল আদায় করা হবে।’
রবিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন। খামেনেইয়ের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ গোটা দেশ, কিন্তু সেই শোক এখন অগ্নিগর্ভ প্রতিশোধের নেশায় রূপান্তরিত হয়েছে। পেজেশকিয়ান বলেন, “আমেরিকা ও ইজরায়েল যে অপরাধ করেছে, তার পাল্টা আঘাত হানার পূর্ণ অধিকার আমাদের রয়েছে। গতকালই আমরা ওদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছি যা নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে। এবার এমন শক্তি প্রয়োগ করব, যা দুনিয়া এর আগে কখনও দেখেনি।”
কূটনীতিকদের মতে, পরিস্থিতি এখন খাদের কিনারায়। শনিবার থেকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে ইজরায়েলও। তেহরানসহ ইরানের একাধিক কৌশলগত অবস্থানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইজরায়েলি বিমান বাহিনী। এই পাল্টাপাল্টি হানাহানি যে কোনো মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, খামেনেই ছিলেন স্বাধীন ইরানের প্রতীক এবং বিদেশি আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এক আপসহীন কণ্ঠস্বর। রমজানের দশম দিনে তাঁর এই ‘শাহাদাত’ ইসলামি দুনিয়ার জন্য এক বিরাট পরীক্ষা। তেহরানের দাবি, এটি কেবল ইরানের ওপর হামলা নয়, বরং গোটা শিয়া মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণা। ভারতের ইরান দূতাবাসও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদ’ বলে অভিহিত করেছে। তারা জানিয়েছে, নিরীহ স্কুলছাত্রী এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বকে এভাবে হত্যা করা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে। পশ্চিম এশিয়ার এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতি ও শান্তিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখন সিঁদুরে মেঘ দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।